নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আব্দুল্লাহ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ও শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ভেঙে পড়েছে পাঠদান কার্যক্রম। ১৪১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বর্তমানে শিক্ষক আছেন মাত্র ৩ জন। এমনকি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করেই ফলাফল দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।সংকট ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমানের মৃত্যুর পর থেকেই বিশৃঙ্খলার শুরু। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন নিয়ে দুই সহকারী শিক্ষকের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এই দ্বন্দ্ব নিরসনে ওই দুই শিক্ষককে অন্য স্কুলে প্রেষণে (ডেপুটেশন) পাঠানো হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র তিনে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ১৪১ জন শিক্ষার্থীর জন্য কমপক্ষে ৬ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অর্ধেক জনবল দিয়ে চলছে নামমাত্র পাঠদান।খাতা না দেখেই ফলাফল! সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন নিয়ে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের বার্ষিক পরীক্ষা এবং ২০২৫ সালের প্রথম ও তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ের খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ও ধর্ম এবং ২০২৫ সালের গণিত ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের খাতা না দেখেই চূড়ান্ত তালিকায় নম্বর তুলে দেওয়া হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, "শিক্ষকরা নিজেরা খাতা না দেখে অনেক সময় শিক্ষার্থী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করান। এমনকি প্রাইভেট পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বেশি নম্বর দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে।"পাল্টাপাল্টি অভিযোগ প্রেষণে যাওয়ার আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা শরিফা আক্তার সহকর্মীদের অসহযোগিতাকে দায়ী করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, খাতা মূল্যায়ন ছাড়াই ফলাফল প্রকাশের ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন।কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিষয়টি নিয়ে বেলাব উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ক্লাস্টার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন জানান, দুই শিক্ষকের দ্বন্দ্বের কারণে তাদের প্রেষণে পাঠানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি তদন্তে মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন ও মো. ইউসুফকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলেখা শারমিন বলেন, "বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"বর্তমানে আব্দুল্লাহ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।