বিপ্লবী বার্তা
সর্বশেষ
৭ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, প্রথম ভোট ১২ নভেম্বর

৭ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, প্রথম ভোট ১২ নভেম্বর

সারাদেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকারের এই বৃহৎ নির্বাচন কার্যক্রম। শেষ ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২৭ মে।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সাতটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর। দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে।এরপর আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সর্বশেষ সপ্তম ধাপে ২৭ মে ভোট নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।প্রথম ধাপের নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে দেশের ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদকে প্রথম ধাপের আওতায় রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সারাদেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।তবে এখনো পুরো তফসিল চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। কমিশনের বৈঠকে এসব বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনী কার্যক্রমের তৃতীয় ধাপে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপে বসবে ইসি। সেখানে নির্বাচন আয়োজন, পরিবেশ, অংশগ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হবে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জে কৃষক কার্ড পেলেন ১৪৫১ জন

গাজীপুরের কালীগঞ্জে কৃষক কার্ড পেলেন ১৪৫১ জন

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ১ হাজার ৪৫১ জন কৃষকের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কলে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং স্থানীয় কৃষকদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষে কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের কালব রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন হলে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন।এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার ড. চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ্ রিয়াজুল হান্নান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া এবং গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়া, গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আবদুল্লাহ-আল ফারুক, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার ও সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলুসহ কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, স্মার্ট ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা রূপান্তরের অংশ হিসেবে এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকেরা সরাসরি সরকারি সার, বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও আর্থিক প্রণোদনার সুফল ভোগ করতে পারবেন। এতে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

পাচার প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী শার্শায় রাইটসের পর্যালোচনা সভা  পাচারের শিকার ৯২ জনকে পরিবারের কাছে ফেরত, আইনি সহায়তা ৫৫ জনকে

পাচার প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী শার্শায় রাইটসের পর্যালোচনা সভা পাচারের শিকার ৯২ জনকে পরিবারের কাছে ফেরত, আইনি সহায়তা ৫৫ জনকে

সীমান্তবর্তী যশোরের শার্শা উপজেলায় নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার সকালে শার্শা উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা যশোর রাইটসের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় গত কয়েক মাসের পাচার প্রতিরোধ, উদ্ধার, কেস ম্যানেজমেন্ট, আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং ও পুনঃএকত্রীকরণ কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোরের উপ-পরিচালক এসএম আজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনওডিসির আঞ্চলিক অফিসের দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয় প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী তাসনিন বিনতা করিম।সভায় রাইটস যশোরের কর্মকর্তা, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত চার মাসে পাচারের ঝুঁকিতে থাকা দুই নারী ও শিশুকে জরুরি সুরক্ষা সেবা কেন্দ্রে রেফার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯২ জন ভুক্তভোগীকে নিরাপদে তাদের পরিবার ও স্বজনদের কাছে পুনঃএকত্রীকরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৯ জন ভুক্তভোগীকে নিয়মিত ফলোআপ ও সামাজিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, পাচার-সংক্রান্ত ১৩টি আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ১৭ জন ভুক্তভোগীকে সরাসরি আইনি পরামর্শ ও তথ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি ও প্রশাসনিক অভিযোগ করা হয়েছে ১৩টি।পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে পুনঃএকত্রীকরণের অংশ হিসেবে ৯২ জনকে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ, ৫৫ জনকে প্রত্যক্ষ আইনি সহযোগিতা এবং ২৬ জনকে মানসিক ও সামাজিক কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তার জন্য ১১ জনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।এছাড়া মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে স্থানীয় চারটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দুটি অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানানো হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় শার্শা মানব পাচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পাচার প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিদেশ থেকে ফেরত আসা নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।তিনি যশোর রাইটসের মাঠপর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার কমিয়ে আনা সম্ভব।

বাবার দাফনে বাড়ি ফাঁকা, চুরি হলো সাড়ে ৫ লাখ টাকার টাকা-স্বর্ণ

বাবার দাফনে বাড়ি ফাঁকা, চুরি হলো সাড়ে ৫ লাখ টাকার টাকা-স্বর্ণ

পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের ধুলিয়ারী এলাকায় একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাড়ির মালিকের দাবি, তার বাবার দাফন ও পারিবারিক কাজে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে নগদ ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও প্রায় এক ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের চেইন চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।এ ঘটনায় গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিক মো. মিজানুর রহমান খান (৪৮)।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের বাবা গত ৫ অক্টোবর সকালে মারা যান। বাবার দাফন ও পারিবারিক কাজে তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ পৈতৃক বাড়িতে চলে যান। এ সময় তার নিজ বসতঘরটি তালাবদ্ধ ছিল।মিজানুর রহমান জানান, বুধবার দুপুর দুইটার দিকে ব্যাংকের চেক নিতে তিনি নিজ বাড়িতে ফেরেন। এ সময় ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে বাড়ির পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। এরপর আশপাশের লোকজনকে নিয়ে ঘরে খোঁজাখুঁজি করে দেখা যায়, পেছনের কক্ষের স্টিলের আলমারিতে রাখা ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং দুটি স্বর্ণের গলার চেইন নেই। চেইন দুটির আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।মিজানুর রহমানের ধারণা, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে কোনো একসময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা বাড়ির পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আলমারি ভেঙে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমকে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের ধুলিয়ারী এলাকায় গতকাল দুপুরে একটি চুরির ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্বকাপ দলগুলোর থাকার হোটেল ও অনুশীলন ক্যাম্প, কার ঠিকানা কোথায়?

বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট / বিশ্বকাপ দলগুলোর থাকার হোটেল ও অনুশীলন ক্যাম্প, কার ঠিকানা কোথায়?

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ২০২৬ বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম শেষেই নিজ নিজ দেশের ক্যাম্পে যোগ দেবেন ফুটবলাররা। ১০৪ ম্যাচের এই দীর্ঘ বিশ্বযুদ্ধের বেশিরভাগ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে আমেরিকার মাটিতে।বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফুটবলারদের বিশ্রাম, পুষ্টি ও অনুশীলনের সুবিধা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি দলই ম্যাচ ভেন্যুর কাছাকাছি বেছে নিয়েছে নিজেদের বেস ক্যাম্প। তারকা ফুটবলারদের জন্য এসব ক্যাম্পে থাকছে আধুনিক পারফরম্যান্স ল্যাব, জিমনেসিয়াম ও বিলাসবহুল আবাসন ব্যবস্থা।পাঠকদের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপের দলগুলোর বেস ক্যাম্প, অনুশীলনের ভেন্যু এবং গ্রুপ পর্বের ম্যাচের সময়সূচি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী দলসমূহআর্জেন্টিনা (ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন)অবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: স্পোর্টিং কেসি পারফরম্যান্স সেন্টারআবাসন: হোটেল সেভয়, কানসাস সিটিআলজেরিয়া (১৬ জুন, কানসাস সিটি), অস্ট্রিয়া (২২ জুন, ডালাস), জর্ডান (২৭ জুন, ডালাস)।বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ক্যাম্পে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দোহা ক্যাম্পের মতোই এখানেও আলবিসেলেস্তেদের জন্য থাকছে তাদের ঐতিহ্যবাহী 'বার্বিকিউ মাংস' রান্নার বিশেষ কাস্টমাইজড সুবিধা। হোটেল থেকে অনুশীলন মাঠের দূরত্ব ২০ মিনিটেরও কম।ব্রাজিলঅবস্থান: নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সিঅনুশীলন: কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং施設 (নিউ জার্সি)আবাসন: রিজ হোটেল, নিউ ইয়র্ক সিটিম্যাচের সূচি: মরক্কো (১৩ জুন, নিউ জার্সি), হাইতি (১৯ জুন, ফিলাডেলফিয়া), স্কটল্যান্ড (২৪ জুন, মায়ামি)।পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা থাকার জন্য বেছে নিয়েছে ঝলমলে নিউ ইয়র্ক সিটি ('বিগ অ্যাপেল')। তবে তারা অনুশীলন করবে পার্শ্ববর্তী নিউ জার্সিতে এমএলএস দল নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন কেন্দ্রে।জার্মানিঅবস্থান: উইনস্টন-সালেম, নর্থ ক্যারোলিনাঅনুশীলন: ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয় (ডব্লিউ ডেনি স্প্রি সকার স্টেডিয়াম)আবাসন: দ্য গ্রেলাইন এস্টেটম্যাচের সূচি: কুরাসাও (১৪ জুন, হিউস্টন), আইভরি কোস্ট (২০ জুন, টরন্টো), ইকুয়েডর (২৫ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।চারবারের চ্যাম্পিয়নরা সম্পূর্ণ গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে বিলাসবহুল বুটিক হোটেল গ্রেলাইন এস্টেট বেছে নিয়েছে। ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির এই স্টেডিয়ামটি আমেরিকার অন্যতম সেরা কলেজিয়েট ফুটবল ভেন্যু। এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশের কোনো সুযোগ থাকবে না।ফ্রান্সঅবস্থান: ওয়ালথাম, ম্যাসাচুসেটসঅনুশীলন: বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়আবাসন: ফোর সিজনস হোটেল, বোস্টনম্যাচের সূচি: সেনেগাল (১৬ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি), ইরাক (২২ জুন, ফিলাডেলফিয়া), নরওয়ে (২৬ জুন, বোস্টন)।বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফরাসি দলের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কোনো ব্যাঘাত ছাড়াই চলবে।ইংল্যান্ডঅবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: সোয়াপ সকার সেন্টারআবাসন: দ্য ইন অ্যাট মেডোব্রুকম্যাচের সূচি: ক্রোয়েশিয়া (১৭ জুন, ডালাস), ঘানা (২৩ জুন, বোস্টন), পানামা (২৭ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।হ্যারিকেনদের হোটেলটি তাদের অনুশীলন মাঠ থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। কানসাস সিটিতে ইংল্যান্ডের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা এবং নেদারল্যান্ডসও ঘাঁটি গেড়েছে।পর্তুগালঅবস্থান: পাম বিচ কাউন্টি, ফ্লোরিডাঅনুশীলন: গার্ডেন নর্থ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্টস পার্কআবাসন: ফোর সিজনস হোটেলম্যাচের সূচি: ডিআর কঙ্গো (১৭ জুন, হিউস্টন), উজবেকিস্তান (২৩ জুন, হিউস্টন), কলম্বিয়া (২৮ জুন, মায়ামি)।১০টি মাঠের এই বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল অনুশীলন করবে। এর আগে এখানে রিয়াল মাদ্রিদ দল ক্লাব বিশ্বকাপের সময় অনুশীলন করেছিল।স্পেনঅবস্থান: চ্যাটানুগা, টেনেসিঅনুশীলন: বেলর স্কুলআবাসন: দ্য অ্যাম্বাসি সুইটসম্যাচের সূচি: কেপ ভার্দে (১৫ জুন, আটলান্টা), সৌদি আরব (২১ জুন, আটলান্টা), উরুগুয়ে (২৬ জুন, গুয়াদালাহারা)।চ্যাটানুগার একটি অভিজাত ব্যক্তিগত স্কুলে অবস্থান করবে স্পেন। দলের শতভাগ গোপনীয়তা বজায় রাখতে বেলর স্কুল তাদের ক্যাম্পাসে ১০ ফুটের ব্ল্যাকআউট বেষ্টনী তৈরি করেছে।নেদারল্যান্ডসঅবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: কেসি কারেন্ট ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: হোটেল কানসাস সিটিম্যাচের সূচি: জাপান (১৪ জুন, ডালাস), সুইডেন (২০ জুন, হিউস্টন), তিউনিসিয়া (২৫ জুন, কানসাস সিটি)।ডাচরা আমেরিকার প্রথম বিশেষায়িত নারী পেশাদার ক্রীড়া দলের (কানসাস সিটি কারেন্ট) কমপ্লেক্সে অনুশীলন করবে। ঐতিহ্যবাহী 'কমলা ডাবল-ডেকার বাস' নিয়ে এবারও মাতবেন ডাচ সমর্থকরা।বেলজিয়ামঅবস্থান: রেন্টন, ওয়াশিংটনঅনুশীলন: সিয়াটল সাউন্ডার্স ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: হায়াত রিজেন্সি, সিয়াটলম্যাচের সূচি: মিশর (১৫ জুন, সিয়াটল), ইরান (২১ জুন, লস অ্যাঞ্জেলেস), নিউজিল্যান্ড (২৬ জুন, ভ্যাঙ্কুভার)।ইতালি/অন্যান্য ইউরোপীয় দলসমূহ:ক্রোয়েশিয়া: অবস্থান ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়া (এপিসকোপাল হাই স্কুল)। ম্যাচের সূচি: ইংল্যান্ড (১৭ জুন), পানামা (২৩ জুন), যুক্তরাষ্ট্র (২৭ জুন)।অস্ট্রিয়া: অবস্থান সান্টা বারবারা, ক্যালিফোর্নিয়া। হোটেলের নাম রিৎজ-কার্লটন।সুইডেন: ফ্রিসকো, টেক্সাস (এফসি ডালাস স্টেডিয়াম)। ১৮২ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সংস্কার করা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে তারা।সুইজারল্যান্ড: সান ডিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া। হোটেল থেকে একাডেমির দূরত্ব মাত্র ৮ মিনিট।চেক প্রজাতন্ত্র: ম্যানসফিল্ড, টেক্সাস (ম্যানসফিল্ড মাল্টিপারপাস স্টেডিয়াম)।এশিয়ান ও আফ্রিকান পরাশক্তিদের ক্যাম্প:জাপান: অ্যান্টিওক, টেনেসি (ন্যাশভিল এসসি ভ্যান্ডারবিল্ট হেলথ ট্রেনিং সেন্টার)।সৌদি আরব: অস্টিন, টেক্সাস (অস্টিন এফসি স্টেডিয়াম)। ২০৩৪ বিশ্বকাপের একক আয়োজক দেশটি থাকবে অস্টিনের ফোর সিজনস হোটেলে।মিশর: স্পোকেন, ওয়াশিংটন (গনজাগা বিশ্ববিদ্যালয়)। মোহাম্মদ সালাহর দল মূলত পশ্চিম উপকূল কেন্দ্রিক ম্যাচগুলো খেলবে।আইভরি কোস্ট: চেস্টার, পেনসিলভানিয়া (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন সুবারু পার্ক)।সেনেগাল: পিসকাটাওয়ে, নিউ (রুটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়)।ঘানা: স্মিথফিল্ড, রোড আইল্যান্ড (ব্রায়ান্ট বিশ্ববিদ্যালয়)।উজবেকিস্তান (নবাগত): ম্যারিয়েটা, জর্জিয়া (আটলান্টা ইউনাইটেড ট্রেনিং সেন্টার)।ইরাক: হোয়াইট সালফার স্প্রিংস, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া (দ্য গ্রিনব্রিয়ার রিসোর্ট)। যেখানে পূর্বে ২৮ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবস্থান করেছেন, সেই রাজকীয় রিসোর্টে থাকবে ইরাক দল।আলজেরিয়া: লরেন্স, কানসাস (কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়)।লাতিন ও উত্তর আমেরিকার অন্যান্য দল:যুক্তরাষ্ট্র (স্বাগতিক): আরভাইন, ক্যালিফোর্নিয়া (গ্রেট পার্ক স্পোর্টস কমপ্লেক্স)। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বিমানঘাঁটিতে তৈরি এই ক্যাম্পকে 'অনবদ্য' আখ্যা দিয়েছেন ইউএস সকারের ডিরেক্টর।অস্ট্রেলিয়া: ওকল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়া (ক্লেয়ারমন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড ক্লাব)।প্যারাগুয়ে: সান জোসে, ক্যালিফোর্নিয়া (সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটি)।ইকুয়েডর: কলম্বাস, ওহিও (কলম্বাস ক্রু পারফরম্যান্স সেন্টার)।ডিআর কঙ্গো: হিউস্টন, টেক্সাস (হিউস্টন স্পোর্টস পার্ক)।কেপ ভার্দে (নবাগত): টাম্পা, ফ্লোরিডা (ওয়াটার্স স্পোর্টসপ্লেক্স)।কুরাসাও (নবাগত): পাম বিচ কাউন্টি, ফ্লোরিডা (ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়)।জর্ডান (নবাগত): পোর্টল্যান্ড, ওরেগন (পোর্টল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়)।মেক্সিকো (স্বাগতিক)অবস্থান: মেক্সিকো সিটিপ্রশিক্ষণ ও আবাসন: সেন্ট্রো ডি আল্টো রেন্ডিমিয়েন্টো (CAR)ম্যাচের সূচি: দক্ষিণ আফ্রিকা (১১ জুন, মেক্সিকো সিটি), দক্ষিণ কোরিয়া (১৮ জুন, গুয়াদালাহারা), চেকিয়া (২৪ জুন, মেক্সিকো সিটি)।মেক্সিকো তাদের নিজেদের ঘরের মাঠের আবহ এবং উচ্চতার সুবিধা (Altitude Advantage) শতভাগ কাজে লাগাতে রাজধানীতেই ক্যাম্প করেছে। এই হাই-পারফরম্যান্স কেন্দ্রটি ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম থেকে মাত্র ১৫ মিনিট দূরে, যা একই সাথে খেলোয়াড়দের থাকা ও অনুশীলনের জায়গা হিসেবে কাজ করবে।কলম্বিয়াঅবস্থান: গুয়াদালাহারা, মেক্সিকোঅনুশীলন: অ্যাটলাস এজিএ একাডেমিআবাসন: গ্র্যান্ড ফিয়েস্তা আমেরিকানা কান্ট্রি ক্লাবউজবেকিস্তান (১৭ জুন, মেক্সিকো সিটি), ডিআর কঙ্গো (২৩ জুন, গুয়াদালাহারা), পর্তুগাল (২৭ জুন, মায়ামি)।বিশেষত্ব: ২০২৩ সালে উদ্বোধন করা এই আধুনিক পারফরম্যান্স সেন্টারে ছয়টি পেশাদার মাঠ এবং স্পোর্টস সায়েন্স মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।মেক্সিকোর অন্যান্য ক্যাম্প:দক্ষিণ কোরিয়া: গুয়াদালাহারা (চিভাস ভার্দে ভালে)। উচ্চতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য এই শহরটিকে বেছে নিয়েছে তারা।দক্ষিণ আফ্রিকা: পাচুকা (ইউনিভার্সিদাদ দেল ফুটবল)। এখানে একটি ফিফা-সার্টিফাইড মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।তিউনিসিয়া: মনটেনি (এল বারিয়াল ট্রেনিং সেন্টার)। লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রিমিয়াম ফুটবল সুবিধা এটি।প্লেয়া ডেল কারমেন, কুইন্টানা রু (মায়াকোবা ট্রেনিং সেন্টার)। বিমানবন্দর ও হোটেলের কাছাকাছি বিলাসবহুল রিসোর্ট সিটিতে থাকবে সুয়ারেজ-ভালভার্দের দেশ।কানাডা অবস্থান: ভ্যাঙ্কুভার, ব্রিটিশ কলম্বিয়াঅনুশীলন: ন্যাশনাল সকার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারআবাসন: দ্য ওয়েস্টিন বেশোর, ভ্যাঙ্কুভারম্যাচের সূচি: বসনিয়া (১২ জুন, টরন্টো), কাতার (১৮ জুন, ভ্যাঙ্কুভার), সুইজারল্যান্ড (২৪ জুন, ভ্যাঙ্কুভার)।স্বাগতিক দেশের সুবিধা নিয়ে কানাডা ভ্যাঙ্কুভারে বেস ক্যাম্প করেছে। গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচের ২টিই তারা ঘরের মাঠে খেলবে।পানামাঅবস্থান: নিউ টেকুমসেথ, ওন্টারিওঅনুশীলন: নোটাওয়াসাগা ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: নোটাওয়াসাগা রিসোর্ট অ্যান্ড কনফারেন্স সেন্টারম্যাচের সূচি: ঘানা (১৭ জুন, টরন্টো), ক্রোয়েশিয়া (২৩ জুন, টরন্টো), ইংল্যান্ড (২৭ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।কানাডা নিজেদের দল ছাড়া একমাত্র পানামাকেই তাদের দেশের মাটিতে বেস ক্যাম্প করার অনুমতি দিয়েছে।ইরানঅবস্থান: তিজুয়ানা, মেক্সিকো (যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের ঠিক বিপরীতে)ম্যাচের সূচি: নিউজিল্যান্ড (১৫ জুন), বেলজিয়াম (২১ জুন), মিশর (২৬ জুন)।রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা জনিত বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে ইরানের বিশ্বকাপ ক্যাম্প নিয়ে বেশ জলঘোলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দলটিকে স্বাগত জানালেও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। ফলে নির্বিঘ্নে অনুশীলনের জন্য আমেরিকার সান ডিয়েগোর ঠিক বিপরীতে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিজুয়ানায় বেস ক্যাম্প সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইরান ফুটবল ফেডারেশন, যা ফিফা কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।সব মিলিয়ে ফুটবলারদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স আদায় করে নিতে আয়োজক শহরগুলো এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মাঠের লড়াইয়ে কোন ক্যাম্পের কৌশল কতটা কাজে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

জবির সমাবর্তনে বাড়তি ফি, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

জবির সমাবর্তনে বাড়তি ফি, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ও মূল সনদ বাবদ বাড়তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় দ্বিতীয় সমাবর্তনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন ফি কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে সমাবর্তনে অংশগ্রহণে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতক (সম্মান), বিবিএ বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। স্নাতকোত্তর, এমবিএ বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে ৬ হাজার টাকা। এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর সঙ্গে মূল সনদের জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৫০০ টাকা, এমফিল ও পিএইচডির জন্য ১ হাজার টাকা এবং স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের জন্য ৮০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে সার্ভিস চার্জও প্রযোজ্য হবে।অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের জন্য নিবন্ধন ফি ছিল ৩ হাজার টাকা, সঙ্গে মূল সনদ ফি ৪০০ টাকা। স্নাতকোত্তর ও এমবিএর জন্য নিবন্ধন ফি ছিল ৪ হাজার টাকা, সঙ্গে ৪০০ টাকা মূল সনদ ফি। এমফিল ও পিএইচডির ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকা, সঙ্গে ৪০০ টাকা মূল সনদ ফি। আর সান্ধ্যকালীন সব প্রোগ্রামের জন্য নিবন্ধন ফি ছিল ৬ হাজার টাকা, সঙ্গে ৮০০ টাকা মূল সনদ ফি।প্রথম সমাবর্তনে নিবন্ধন ফি ও মূল সনদ ফির মোট অর্থের ওপর ১ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়েছিল।ফি তুলনা করে দেখা যায়, প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতক ও বিবিএ শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা, স্নাতকোত্তর ও এমবিএ শিক্ষার্থীদের ২ হাজার টাকা এবং এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মূল সনদ ফিও ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় আয়োজন হলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফি অনেকের জন্য বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে দাড়াতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য একসঙ্গে নিবন্ধন ফি, সনদ ফি ও অন্যান্য সম্ভাব্য সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করা কঠিন হতে পারে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইয়ান হোসেন অপু বলেন, "সমাবর্তন হবে এইটা খুশির সংবাদ,কিন্তু সমাবর্তন ফিস ৫/৬ হাজার, এইটা দু:খজনক"আরেক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন,"আমাদের সময়ে ৩৫০০ টাকা ছিল। এখন এত বেশি এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের সুবিধা অসুবিধার কথা চিন্তা করা উচিত প্রশাসনের। "শিক্ষার্থীদের দাবি, সমাবর্তনকে সবার অংশগ্রহণের উপযোগী করতে ফি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও খরচের বিস্তারিত হিসাব শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্ট করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, “সমাবর্তনের ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয়নি। একাডেমিক কাউন্সিলের সব সদস্য, সিন্ডিকেট সদস্য, চেয়ারম্যান ও ডিনরা সবাই মিলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ছয় বছর আগে যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল, বর্তমানে সবকিছুর দাম ও আয়োজনের খরচ বেড়েছে। একটি সমাবর্তন আয়োজন করতে এখন অনেক বেশি ব্যয় হয়। সবকিছু বিবেচনা করে সবার মতামতের ভিত্তিতেই ২ হাজার টাকা করে ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা বা আপত্তি থাকতেই পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ও সমাবর্তন আয়োজনের ব্যয় বিবেচনায় ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। বিষয়টি শিক্ষার্থীদেরও ইতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করা উচিত।”

অনলাইন জরিপ
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৪.০৫ টাকা বাড়াতে চায় বাস মালিকরা। আপনি কি বাস মালিকদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করছেন?

বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৪.০৫ টাকা বাড়াতে চায় বাস মালিকরা। আপনি কি বাস মালিকদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করছেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৮ জন

এভিয়েশন

কোন পোস্ট নেই !

শিশু কিশোর

কোন পোস্ট নেই !

আর্কাইভ

কোন পোস্ট নেই !

আর্কাইভ

কোন পোস্ট নেই !