বিপ্লবী বার্তা
সর্বশেষ
বাগেরহাট পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ

পুরোনো ঠিকাদারের হাতেই একাধিক কাজ

বাগেরহাট পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ

বহুপ্রতিক্ষার পর বাগেরহাট পৌরসভার প্রধান ও উপ-সড়কগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে কোটি কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ ও কাজ শুরু হলেও নির্মাণকাজের জঘন্য মান, জালিয়াতি এবং তদারকি নিয়ে মারাত্মক ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজ চলাকালেই কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় বড় গর্ত, কোথাও বা নতুন রোলার চালানো রাস্তায় জমছে বৃষ্টির পানি। আবার অনেক জায়গায় পুরোনো জীর্ণ সড়কের ওপর প্রয়োজনীয় বালু ও খোয়ার শক্ত ভিত্তি প্রস্তুত না করেই তড়িঘড়ি করে নামমাত্র কার্পেটিং করে সরকারি বিল হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাট পৌরসভার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য শুরুতে ৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হলেও পরবর্তীতে সংশোধিত বিলে তা বাড়িয়ে ৯ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা করা হয়। ২০২৫ সালের ২৬ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদী এ প্রকল্পের আওতায় চারটির কাজ প্রায় শেষ, দুটি শেষ পর্যায়ে, কিছু চলমান এবং বাকি চারটি কাজ এখনো শুরুই হয়নি। তবে এ পর্যন্ত মোট বরাদ্দের প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।নথি অনুযায়ী টেন্ডারটি ‘মেসার্স জহিরুল হক দুলাল’ ও কুড়িগ্রামের একটি প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয়ভাবে 'খোকন' নামে পরিচিত এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এলাকাবাসীর তীব্র প্রশ্ন- গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পরও কীভাবে আগের সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট ওই বিতর্কিত ঠিকাদারি সিন্ডিকেটই ঘুরেফিরে সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে? ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও কি ঠিকাদারি ব্যবস্থার নামে সেই পুরানো অনিয়ম ও লুটেরাই বহাল তবিয়তে রয়ে গেল?সরেজমিনে তদন্তে উঠে এসেছে চরম অনিয়মের চিত্র। ১.৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ 'মিঠাপুকুর পার মসজিদ থেকে নূর মসজিদ মোড় হয়ে এলজিইডি অফিস' সড়কের কাজ ৯৯ শতাংশ শেষ দাবি করা হলেও কাজ হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে বিপজ্জনক খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ৩৪৩ মিটার দীর্ঘ 'বাসাভাটি আমতলা স্কুল থেকে টোল অফিস হয়ে পুটিমারি ব্রিজ' সড়কের ৮০ শতাংশ কাজ শেষের পথেই খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এছাড়া ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ১.৬৯৩ কিলোমিটারের 'রাহাতের মোড় থেকে পুরাতন বাজার হয়ে চানমারি ব্রিজ' সড়কের কাজ হয়েছে মাত্র ৩৮ শতাংশ।স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ, শাহিন, জনি ও সাবু অভিযোগ করে বলেন, পুরোনো সড়ক খুঁড়ে নির্দিষ্ট গভীরতায় শক্ত বেড তৈরির নিয়ম থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সামান্য খোয়া ফেলে রোলার চালিয়ে তার ওপর কার্পেটিং করা হয়েছে। কাজের সিডিউল দেখতে চাইলে ঠিকাদারের লোকেরা সাধারণ মানুষকে তা দেখায়নি। নিম্নমানের তিন নম্বর ইট ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী একপর্যায়ে কাজ বন্ধ করে দিলেও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় আবার একই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালু করা হয়। সড়কের নিচু জায়গায় পানি জমার আপত্তি জানালে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে বলা হয়- "বাজেট অনুযায়ী এখন এভাবেই হবে, ভেঙে গেলে পরে আবার করা হবে।"শুধু নিম্নমানের কাজই নয়, স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক ও তদারকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ঠিকাদার খোকনের অপব্যবহার ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি নির্মাণকাজের অনিয়ম নিয়ে কৈফিয়ত চাওয়ায় প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক প্রবীণ নারী বাসিন্দাকে ঠিকাদার গালিগালাজ করে লাঞ্ছিত করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া বিগত কোভিড-১৯ কালীন প্রকল্পে 'সোহেল কনস্ট্রাকশন'-এর নামে মোল্লাবাড়ির রাস্তা, ফরিদা মসজিদ সড়ক, ভিআইপি রোড ও পিটিআই স্কুল রোডের ড্রেন ও স্ল্যাব নির্মাণেও এই একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের নজির রয়েছে।কাজের তথ্য ও অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদার খোকনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে সাংবাদিকদের সাথে সামনাসামনি বসে চা পানের দাওয়াত দিয়ে বিষয়টি রফা করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে অনিয়মের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তীব্র উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে "সব সাংবাদিক চাঁদাবাজ" বলে গালিগালাজ ও কটূক্তি করেন এবং কোনো ব্যাখা দিতে অস্বীকৃতি জানান।এ বিষয়ে বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান, "পৌরসভার সড়ক উন্নয়ন কাজগুলো প্রতিনিয়ত তদারকি করা হচ্ছে। কোথাও কোনো সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা কাজে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের মাধ্যমে তা পুনঃনির্মাণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

কার্পাসডাঙ্গায় কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কার্পাসডাঙ্গায় কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই মহান কবির মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।বৃহস্পতিবার (২৭ শে আগস্ট) সকাল সাড়ে  ৯:৩০ টায় মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে কবির স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।এতে অংশ নেন স্থানীয় প্রশাসনের এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, কবি-সাহিত্যিক ও সাধারণ মানুষ।দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থিত কবির স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দও ফুল দিয়ে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় বক্তারা বলেন, মানবতার প্রেম ও সাম্যের চেতনায় দীপ্ত কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন তিনি। তার আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে সাহিত্য, সংগীত ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখেন।নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। এই স্বল্প সময়ে তার কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটক বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেয়। তার লেখায় যেমন অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ উঠে এসেছে, তেমনি ফুটে উঠেছে প্রেম, মানবতা ও সাম্যের চেতনা।বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে খ্যাত হলেও তার সৃষ্টিকর্মের বিস্তার অনেক বৃহৎ। কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ ও চলচ্চিত্রে তিনি রেখেছেন স্বতন্ত্র স্বাক্ষর। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। সংগীতে তার অসংখ্য রাগ-রাগিনী আজও অমর হয়ে আছে।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনেক স্মৃতি রয়েছে চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায়। তিনি একাধিকবার এসেছেন এখানে। যেখানে বসে তিনি লিখেছেন ছড়া, কবিতা, গান। কার্পাসডাঙ্গায় এসে তিনি যে ঘরে থাকতেন, কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ঘরটি সেভাবেই রাখা হয়েছে। কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কবির জন্মদিন-মৃত্যুদিন কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয়ভাবে পালন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দক্ষিল-পশ্চিমে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা-মুজিবনগর সড়কে ঐতিহাসিক স্থান কার্পাসডাঙ্গায় পরপর দু’মাস ধরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্বপরিবারে বসবাস করে গেছেন।সেই সুবাদে তাদের আমন্ত্রণে ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে পরপর দু’বার নদীপথে কবি নজরুল স্বপরিবারে কার্পাসডাঙ্গায় এসেছিলেন। সঙ্গে আসা স্ত্রী প্রমিলা, দু’পূত্র সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ি গিরিবালাকে সঙ্গে নিয়ে কবি উঠেছিলেন বর্তমান কার্পাসডাঙ্গার মিশন পাড়ার হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগান বাড়ির একটি আটচালা খড়ের ঘরে। এ ঘরটি এখনও বিদ্যমান।কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই

নিখোঁজ প্রায় ২০০০ মানুষ / নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় এক করুণ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। পাহাড়ের ওপর থেকে ধেয়ে আসা প্রবল বানের তোড়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ছয়শো মানুষ।মৃত্যুর এই তালিকার পাশাপাশি এক বিশাল সংখ্যক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশই বিদেশি পর্যটক। নিখোঁজদের সন্ধানে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে এবং তাদের জীবিত উদ্ধারে কাজ করছেন হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী।এই প্রলয়ংকরী ঘটনার সূত্রপাত হয় হিমালয়ের বুক চিরে আসা নদীর পানি হঠাৎ তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায়। পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা আকস্মিক ঢলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ভূমিধসের কাদা এবং পাথর এক ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে। বানের পানির এই তীব্র শক্তি তার গতিপথে থাকা বাড়িঘর, সেতু, গাছপালা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ যাবতীয় অবকাঠামো মুহূর্তের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে এই মর্মান্তিক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। বিশেষ করে সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্র এবং পবিত্র স্থানগুলোতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু ও তীর্থযাত্রীর সমাগম ঘটেছিল। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ে তাদের একটি বড় অংশ আটকা পড়েন কিংবা ভেসে যান, যার ফলে বহু ভিন্ন দেশের নাগরিকদের এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী তিব্বত অঞ্চলেও। সেখানেও বহু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে

রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে

কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পর হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, কয়লা সংকটের কারণে এক মাস ধরে সীমিত উৎপাদনে থাকা ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ পিএলসির (PGCB) তথ্য অনুযায়ী, রবিবার বিকেল ৩টার দিকে দেখা যায়, দুপুর ১টা থেকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরবরাহ বেড়ে প্রায় ৮৪৬ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এর আগে গত বুধবার থেকে কেন্দ্রটি থেকে গড়ে ৭৫০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।এর আগে গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন আরও কমে যায় এবং দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়। রোববার বন্ধ ইউনিটটি চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে শুরু করে আদানি।তবে আদানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর আগেই রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি কারণে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্প্রতি কয়লা সংকটের কারণে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিল। বর্তমানে কেন্দ্রে কয়লার মজুত রয়েছে এবং দুই ইউনিট মিলিয়ে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। এর মধ্যে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, আদানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ বন্ধ করা হয়েছে।রামপালের বন্ধ ইউনিটটি কবে নাগাদ চালু হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউনিট বন্ধ করার পর সেটি ঠান্ডা হতে (কুল ডাউন) সময় লাগে। এরপর সম্ভবত ভারত থেকে দুজন প্রকৌশলী আসবেন। এখনই ইউনিটটি চালুর সময়সীমা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। দুদিন পর এ বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। বর্তমানে বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। রামপালের একটি ইউনিট বন্ধ এবং আদানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর এই পরিস্থিতিতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ভারসাম্য কতটা বজায় থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিশ্বকাপ দলগুলোর থাকার হোটেল ও অনুশীলন ক্যাম্প, কার ঠিকানা কোথায়?

বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট / বিশ্বকাপ দলগুলোর থাকার হোটেল ও অনুশীলন ক্যাম্প, কার ঠিকানা কোথায়?

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ২০২৬ বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম শেষেই নিজ নিজ দেশের ক্যাম্পে যোগ দেবেন ফুটবলাররা। ১০৪ ম্যাচের এই দীর্ঘ বিশ্বযুদ্ধের বেশিরভাগ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে আমেরিকার মাটিতে।বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফুটবলারদের বিশ্রাম, পুষ্টি ও অনুশীলনের সুবিধা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি দলই ম্যাচ ভেন্যুর কাছাকাছি বেছে নিয়েছে নিজেদের বেস ক্যাম্প। তারকা ফুটবলারদের জন্য এসব ক্যাম্পে থাকছে আধুনিক পারফরম্যান্স ল্যাব, জিমনেসিয়াম ও বিলাসবহুল আবাসন ব্যবস্থা।পাঠকদের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপের দলগুলোর বেস ক্যাম্প, অনুশীলনের ভেন্যু এবং গ্রুপ পর্বের ম্যাচের সময়সূচি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী দলসমূহআর্জেন্টিনা (ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন)অবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: স্পোর্টিং কেসি পারফরম্যান্স সেন্টারআবাসন: হোটেল সেভয়, কানসাস সিটিআলজেরিয়া (১৬ জুন, কানসাস সিটি), অস্ট্রিয়া (২২ জুন, ডালাস), জর্ডান (২৭ জুন, ডালাস)।বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ক্যাম্পে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দোহা ক্যাম্পের মতোই এখানেও আলবিসেলেস্তেদের জন্য থাকছে তাদের ঐতিহ্যবাহী 'বার্বিকিউ মাংস' রান্নার বিশেষ কাস্টমাইজড সুবিধা। হোটেল থেকে অনুশীলন মাঠের দূরত্ব ২০ মিনিটেরও কম।ব্রাজিলঅবস্থান: নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সিঅনুশীলন: কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং施設 (নিউ জার্সি)আবাসন: রিজ হোটেল, নিউ ইয়র্ক সিটিম্যাচের সূচি: মরক্কো (১৩ জুন, নিউ জার্সি), হাইতি (১৯ জুন, ফিলাডেলফিয়া), স্কটল্যান্ড (২৪ জুন, মায়ামি)।পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা থাকার জন্য বেছে নিয়েছে ঝলমলে নিউ ইয়র্ক সিটি ('বিগ অ্যাপেল')। তবে তারা অনুশীলন করবে পার্শ্ববর্তী নিউ জার্সিতে এমএলএস দল নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন কেন্দ্রে।জার্মানিঅবস্থান: উইনস্টন-সালেম, নর্থ ক্যারোলিনাঅনুশীলন: ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয় (ডব্লিউ ডেনি স্প্রি সকার স্টেডিয়াম)আবাসন: দ্য গ্রেলাইন এস্টেটম্যাচের সূচি: কুরাসাও (১৪ জুন, হিউস্টন), আইভরি কোস্ট (২০ জুন, টরন্টো), ইকুয়েডর (২৫ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।চারবারের চ্যাম্পিয়নরা সম্পূর্ণ গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে বিলাসবহুল বুটিক হোটেল গ্রেলাইন এস্টেট বেছে নিয়েছে। ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির এই স্টেডিয়ামটি আমেরিকার অন্যতম সেরা কলেজিয়েট ফুটবল ভেন্যু। এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশের কোনো সুযোগ থাকবে না।ফ্রান্সঅবস্থান: ওয়ালথাম, ম্যাসাচুসেটসঅনুশীলন: বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়আবাসন: ফোর সিজনস হোটেল, বোস্টনম্যাচের সূচি: সেনেগাল (১৬ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি), ইরাক (২২ জুন, ফিলাডেলফিয়া), নরওয়ে (২৬ জুন, বোস্টন)।বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফরাসি দলের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কোনো ব্যাঘাত ছাড়াই চলবে।ইংল্যান্ডঅবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: সোয়াপ সকার সেন্টারআবাসন: দ্য ইন অ্যাট মেডোব্রুকম্যাচের সূচি: ক্রোয়েশিয়া (১৭ জুন, ডালাস), ঘানা (২৩ জুন, বোস্টন), পানামা (২৭ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।হ্যারিকেনদের হোটেলটি তাদের অনুশীলন মাঠ থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। কানসাস সিটিতে ইংল্যান্ডের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা এবং নেদারল্যান্ডসও ঘাঁটি গেড়েছে।পর্তুগালঅবস্থান: পাম বিচ কাউন্টি, ফ্লোরিডাঅনুশীলন: গার্ডেন নর্থ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্টস পার্কআবাসন: ফোর সিজনস হোটেলম্যাচের সূচি: ডিআর কঙ্গো (১৭ জুন, হিউস্টন), উজবেকিস্তান (২৩ জুন, হিউস্টন), কলম্বিয়া (২৮ জুন, মায়ামি)।১০টি মাঠের এই বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল অনুশীলন করবে। এর আগে এখানে রিয়াল মাদ্রিদ দল ক্লাব বিশ্বকাপের সময় অনুশীলন করেছিল।স্পেনঅবস্থান: চ্যাটানুগা, টেনেসিঅনুশীলন: বেলর স্কুলআবাসন: দ্য অ্যাম্বাসি সুইটসম্যাচের সূচি: কেপ ভার্দে (১৫ জুন, আটলান্টা), সৌদি আরব (২১ জুন, আটলান্টা), উরুগুয়ে (২৬ জুন, গুয়াদালাহারা)।চ্যাটানুগার একটি অভিজাত ব্যক্তিগত স্কুলে অবস্থান করবে স্পেন। দলের শতভাগ গোপনীয়তা বজায় রাখতে বেলর স্কুল তাদের ক্যাম্পাসে ১০ ফুটের ব্ল্যাকআউট বেষ্টনী তৈরি করেছে।নেদারল্যান্ডসঅবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: কেসি কারেন্ট ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: হোটেল কানসাস সিটিম্যাচের সূচি: জাপান (১৪ জুন, ডালাস), সুইডেন (২০ জুন, হিউস্টন), তিউনিসিয়া (২৫ জুন, কানসাস সিটি)।ডাচরা আমেরিকার প্রথম বিশেষায়িত নারী পেশাদার ক্রীড়া দলের (কানসাস সিটি কারেন্ট) কমপ্লেক্সে অনুশীলন করবে। ঐতিহ্যবাহী 'কমলা ডাবল-ডেকার বাস' নিয়ে এবারও মাতবেন ডাচ সমর্থকরা।বেলজিয়ামঅবস্থান: রেন্টন, ওয়াশিংটনঅনুশীলন: সিয়াটল সাউন্ডার্স ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: হায়াত রিজেন্সি, সিয়াটলম্যাচের সূচি: মিশর (১৫ জুন, সিয়াটল), ইরান (২১ জুন, লস অ্যাঞ্জেলেস), নিউজিল্যান্ড (২৬ জুন, ভ্যাঙ্কুভার)।ইতালি/অন্যান্য ইউরোপীয় দলসমূহ:ক্রোয়েশিয়া: অবস্থান ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়া (এপিসকোপাল হাই স্কুল)। ম্যাচের সূচি: ইংল্যান্ড (১৭ জুন), পানামা (২৩ জুন), যুক্তরাষ্ট্র (২৭ জুন)।অস্ট্রিয়া: অবস্থান সান্টা বারবারা, ক্যালিফোর্নিয়া। হোটেলের নাম রিৎজ-কার্লটন।সুইডেন: ফ্রিসকো, টেক্সাস (এফসি ডালাস স্টেডিয়াম)। ১৮২ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সংস্কার করা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে তারা।সুইজারল্যান্ড: সান ডিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া। হোটেল থেকে একাডেমির দূরত্ব মাত্র ৮ মিনিট।চেক প্রজাতন্ত্র: ম্যানসফিল্ড, টেক্সাস (ম্যানসফিল্ড মাল্টিপারপাস স্টেডিয়াম)।এশিয়ান ও আফ্রিকান পরাশক্তিদের ক্যাম্প:জাপান: অ্যান্টিওক, টেনেসি (ন্যাশভিল এসসি ভ্যান্ডারবিল্ট হেলথ ট্রেনিং সেন্টার)।সৌদি আরব: অস্টিন, টেক্সাস (অস্টিন এফসি স্টেডিয়াম)। ২০৩৪ বিশ্বকাপের একক আয়োজক দেশটি থাকবে অস্টিনের ফোর সিজনস হোটেলে।মিশর: স্পোকেন, ওয়াশিংটন (গনজাগা বিশ্ববিদ্যালয়)। মোহাম্মদ সালাহর দল মূলত পশ্চিম উপকূল কেন্দ্রিক ম্যাচগুলো খেলবে।আইভরি কোস্ট: চেস্টার, পেনসিলভানিয়া (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন সুবারু পার্ক)।সেনেগাল: পিসকাটাওয়ে, নিউ (রুটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়)।ঘানা: স্মিথফিল্ড, রোড আইল্যান্ড (ব্রায়ান্ট বিশ্ববিদ্যালয়)।উজবেকিস্তান (নবাগত): ম্যারিয়েটা, জর্জিয়া (আটলান্টা ইউনাইটেড ট্রেনিং সেন্টার)।ইরাক: হোয়াইট সালফার স্প্রিংস, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া (দ্য গ্রিনব্রিয়ার রিসোর্ট)। যেখানে পূর্বে ২৮ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবস্থান করেছেন, সেই রাজকীয় রিসোর্টে থাকবে ইরাক দল।আলজেরিয়া: লরেন্স, কানসাস (কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়)।লাতিন ও উত্তর আমেরিকার অন্যান্য দল:যুক্তরাষ্ট্র (স্বাগতিক): আরভাইন, ক্যালিফোর্নিয়া (গ্রেট পার্ক স্পোর্টস কমপ্লেক্স)। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বিমানঘাঁটিতে তৈরি এই ক্যাম্পকে 'অনবদ্য' আখ্যা দিয়েছেন ইউএস সকারের ডিরেক্টর।অস্ট্রেলিয়া: ওকল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়া (ক্লেয়ারমন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড ক্লাব)।প্যারাগুয়ে: সান জোসে, ক্যালিফোর্নিয়া (সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটি)।ইকুয়েডর: কলম্বাস, ওহিও (কলম্বাস ক্রু পারফরম্যান্স সেন্টার)।ডিআর কঙ্গো: হিউস্টন, টেক্সাস (হিউস্টন স্পোর্টস পার্ক)।কেপ ভার্দে (নবাগত): টাম্পা, ফ্লোরিডা (ওয়াটার্স স্পোর্টসপ্লেক্স)।কুরাসাও (নবাগত): পাম বিচ কাউন্টি, ফ্লোরিডা (ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়)।জর্ডান (নবাগত): পোর্টল্যান্ড, ওরেগন (পোর্টল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়)।মেক্সিকো (স্বাগতিক)অবস্থান: মেক্সিকো সিটিপ্রশিক্ষণ ও আবাসন: সেন্ট্রো ডি আল্টো রেন্ডিমিয়েন্টো (CAR)ম্যাচের সূচি: দক্ষিণ আফ্রিকা (১১ জুন, মেক্সিকো সিটি), দক্ষিণ কোরিয়া (১৮ জুন, গুয়াদালাহারা), চেকিয়া (২৪ জুন, মেক্সিকো সিটি)।মেক্সিকো তাদের নিজেদের ঘরের মাঠের আবহ এবং উচ্চতার সুবিধা (Altitude Advantage) শতভাগ কাজে লাগাতে রাজধানীতেই ক্যাম্প করেছে। এই হাই-পারফরম্যান্স কেন্দ্রটি ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম থেকে মাত্র ১৫ মিনিট দূরে, যা একই সাথে খেলোয়াড়দের থাকা ও অনুশীলনের জায়গা হিসেবে কাজ করবে।কলম্বিয়াঅবস্থান: গুয়াদালাহারা, মেক্সিকোঅনুশীলন: অ্যাটলাস এজিএ একাডেমিআবাসন: গ্র্যান্ড ফিয়েস্তা আমেরিকানা কান্ট্রি ক্লাবউজবেকিস্তান (১৭ জুন, মেক্সিকো সিটি), ডিআর কঙ্গো (২৩ জুন, গুয়াদালাহারা), পর্তুগাল (২৭ জুন, মায়ামি)।বিশেষত্ব: ২০২৩ সালে উদ্বোধন করা এই আধুনিক পারফরম্যান্স সেন্টারে ছয়টি পেশাদার মাঠ এবং স্পোর্টস সায়েন্স মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।মেক্সিকোর অন্যান্য ক্যাম্প:দক্ষিণ কোরিয়া: গুয়াদালাহারা (চিভাস ভার্দে ভালে)। উচ্চতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য এই শহরটিকে বেছে নিয়েছে তারা।দক্ষিণ আফ্রিকা: পাচুকা (ইউনিভার্সিদাদ দেল ফুটবল)। এখানে একটি ফিফা-সার্টিফাইড মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।তিউনিসিয়া: মনটেনি (এল বারিয়াল ট্রেনিং সেন্টার)। লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রিমিয়াম ফুটবল সুবিধা এটি।প্লেয়া ডেল কারমেন, কুইন্টানা রু (মায়াকোবা ট্রেনিং সেন্টার)। বিমানবন্দর ও হোটেলের কাছাকাছি বিলাসবহুল রিসোর্ট সিটিতে থাকবে সুয়ারেজ-ভালভার্দের দেশ।কানাডা অবস্থান: ভ্যাঙ্কুভার, ব্রিটিশ কলম্বিয়াঅনুশীলন: ন্যাশনাল সকার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারআবাসন: দ্য ওয়েস্টিন বেশোর, ভ্যাঙ্কুভারম্যাচের সূচি: বসনিয়া (১২ জুন, টরন্টো), কাতার (১৮ জুন, ভ্যাঙ্কুভার), সুইজারল্যান্ড (২৪ জুন, ভ্যাঙ্কুভার)।স্বাগতিক দেশের সুবিধা নিয়ে কানাডা ভ্যাঙ্কুভারে বেস ক্যাম্প করেছে। গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচের ২টিই তারা ঘরের মাঠে খেলবে।পানামাঅবস্থান: নিউ টেকুমসেথ, ওন্টারিওঅনুশীলন: নোটাওয়াসাগা ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: নোটাওয়াসাগা রিসোর্ট অ্যান্ড কনফারেন্স সেন্টারম্যাচের সূচি: ঘানা (১৭ জুন, টরন্টো), ক্রোয়েশিয়া (২৩ জুন, টরন্টো), ইংল্যান্ড (২৭ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।কানাডা নিজেদের দল ছাড়া একমাত্র পানামাকেই তাদের দেশের মাটিতে বেস ক্যাম্প করার অনুমতি দিয়েছে।ইরানঅবস্থান: তিজুয়ানা, মেক্সিকো (যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের ঠিক বিপরীতে)ম্যাচের সূচি: নিউজিল্যান্ড (১৫ জুন), বেলজিয়াম (২১ জুন), মিশর (২৬ জুন)।রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা জনিত বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে ইরানের বিশ্বকাপ ক্যাম্প নিয়ে বেশ জলঘোলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দলটিকে স্বাগত জানালেও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। ফলে নির্বিঘ্নে অনুশীলনের জন্য আমেরিকার সান ডিয়েগোর ঠিক বিপরীতে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিজুয়ানায় বেস ক্যাম্প সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইরান ফুটবল ফেডারেশন, যা ফিফা কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।সব মিলিয়ে ফুটবলারদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স আদায় করে নিতে আয়োজক শহরগুলো এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মাঠের লড়াইয়ে কোন ক্যাম্পের কৌশল কতটা কাজে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তদন্তসহ ছয় দফা দাবিতে জাবিতে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

তদন্তসহ ছয় দফা দাবিতে জাবিতে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

​জাকসু ও হল সংসদের আবাসন বৈষম্য বাতিল, পদোন্নতি বোর্ডের অনিয়ম এবং জাকসু ভিপির সঙ্গে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংসদের নেতা-কর্মীরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।​এর আগে গত ১৯ আগস্ট চার দফা দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল সংগঠনটি। সদ্য যুক্ত হওয়া দুটি দাবিসহ মোট ছয়টি দাবির বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন ও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করা হবে বলে মানববন্ধন থেকে হুঁশিয়ারি দেন ছাত্রশক্তির নেতারা।ছাত্রশক্তির উত্থাপিত ছয় দফা দাবিগুলো হচ্ছে- জাকসু ও হল সংসদ নেতাদের বৈষম্যমূলক আবাসন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল, কর্মচারী-কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদোন্নতি বোর্ডে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত, অটোরিকশা ও দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতু এবং সালাম-বরকত হলের ভিপির বিরুদ্ধে তদন্ত, ফজিলাতুন্নেছা হলের ভিপি ঐশী সরকারের বিরুদ্ধে ট্রেজারি ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত, ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক আসাদুল আলম শেখের বিরুদ্ধে সাইবার আইনের বদলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতু এবং জুলাই হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক হোসনে আরা বেবির সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যোগাযোগের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ।​মানববন্ধনে ছাত্রশক্তি জাবি সংসদের সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “আমরা গত ১৯ আগস্ট প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতুর বিরুদ্ধে চাঁদা আদায় এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে ইন্ধন দেওয়ার সুস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি, তিনি এক ছাত্রলীগ কর্মীকে বলেছেন, "আমি জেতা মানে তোরাই জেতা।" তাঁর এমন বার্তা প্রমাণ করে, তিনি ছাত্রলীগকে শেল্টার দিচ্ছেন। জুলাই শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করা এই ভিপির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তা না হলে আমরা বুঝব উপাচার্য নিজেই তাকে শেল্টার দিচ্ছেন।”তিনি আরও বলেন, “নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার পরও আসাদুল আলম শেখকে কেন সাইবার সিকিউরিটি আইনে মামলা দেওয়া হলো? তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করতে হবে। এ ছাড়া ফজিলাতুন্নেছা হলের ভিপি ঐশী সরকার ট্রেজারি ফান্ডের ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যার সঙ্গে প্রশাসনের কোনো একটি অংশ জড়িত থাকতে পারে বলে আমরা সন্দেহ করছি। এসব অভিযোগের তদন্ত না হলে বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতির কারখানায় পরিণত হবে।”​ছাত্রশক্তির জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, “জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমরা ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের পাওয়ার প্র্যাকটিসের রাজনীতি দেখতে চাই না। কিন্তু আমরা দেখছি, একটি দলের ভিপি প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার নামে একটি কোম্পানির কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আবার জরুরি কাজের অজুহাতে টেন্ডার ছাড়া প্রকল্প দিয়ে অতিরিক্ত টাকা বের করা হচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, “জাকসু ভিপি ইনবক্সে পরীক্ষিত এক ছাত্রলীগ কর্মীকে বলেছেন, তিনি (জিতু) ভিপি না হলে তারা বিপদে পড়বে। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের যত কর্মসূচি হয়, সিসি ক্যামেরার তথ্য যেখানে পাচার হয় তার পেছনে নিশ্চয়ই জাকসু নেতাদের মদদ আছে।”এছাড়াও হুঁশিয়ারি দিয়ে অন্বেষা বলেন, “রাজনৈতিক দুশ্চরিত্রের মতো আচরণ করলে শিক্ষার্থীরা তাকে (জিতু) প্রত্যাখ্যান করবে। প্রশাসন যদি দ্রুত এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটি না করে, তবে আগামীতে আমরা রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করতে বাধ্য হব।”উল্লেখ্য, আজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠিতব্য এ সিন্ডিকেট সভায় এসব বিষয়ে জরুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান ছাত্রশক্তির নেতারা।

অনলাইন জরিপ
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৪.০৫ টাকা বাড়াতে চায় বাস মালিকরা। আপনি কি বাস মালিকদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করছেন?

বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৪.০৫ টাকা বাড়াতে চায় বাস মালিকরা। আপনি কি বাস মালিকদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করছেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

এভিয়েশন

কোন পোস্ট নেই !

শিশু কিশোর

কোন পোস্ট নেই !

আর্কাইভ

কোন পোস্ট নেই !

আর্কাইভ

কোন পোস্ট নেই !