বিপ্লবী বার্তা
‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনার দাফন হবে না, দিল্লিতেই তার মৃত্যু হবে’

‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনার দাফন হবে না, দিল্লিতেই তার মৃত্যু হবে’

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইঙ্গিতকে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, 'শেখ হাসিনা দেশে ফেরার হুঙ্কার দিচ্ছেন, কিন্তু তিনি আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না। আজকের তারিখ দিয়ে লিখে রাখেন, পরে মিলিয়ে নেবেন- বাংলাদেশের মাটিতে শেখ হাসিনার জানাজা বা দাফন-কাফন কিছুই হবে না। দিল্লিতেই তাকে মারা যেতে হবে।'বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বাগেরহাট শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির এক বিশাল পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।গণভোট ইস্যুতে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে সারোয়ার তুষার বলেন, 'বিএনপি নেতারা দাবি করছেন গণভোট অবৈধ ও অসাংবিধানিক। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই- গণভোট যদি অবৈধ হয়, তবে সেই গণভোটের ওপর ভিত্তি করে গঠিত বিএনপি নামক দলটি নিজেও অবৈধ। আর গণভোটকে যদি অসাংবিধানিক বলা হয়, তাহলে এই গণভোটের গণরায়ে গঠিত বর্তমান সরকারও অসাংবিধানিক। এই দ্বিচারিতার বিষয়ে বিএনপিকেই এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান ও বৈশ্বিক কূটনীতিনিয়ে কথা বলতে গিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, 'ভারত বর্তমানে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে রেখেছে, তবে তিব্বতের দালাই লামার মতো তাকে রাজনৈতিক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ ভারতের নেই। কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দালাই লামার যে ধরনের নৈতিক ও বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার তার বিন্দুমাত্র নেই। ভারত এখন তাকে অন্য কোনো দেশে পাঠাতেও ব্যর্থ হচ্ছে, কারণ বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই তাকে গ্রহণ করতে চাচ্ছে না।'এনসিপির বাগেরহাট জেলা শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও জাতীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেতা আলী আহসান জুনায়েদ এবং মহিউদ্দিন রনিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ইউপি চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক যোগ্যতার বিধান কেন নয়

হাইকোর্টের রুল / ইউপি চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক যোগ্যতার বিধান কেন নয়

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘স্নাতক’ (ডিগ্রি) নির্ধারণের প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থিতায় নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করে প্রণীত ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯’-এর ২৬ ধারা কেন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা এক জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল প্রদান করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার (এলজিআরডি) সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান। আবেদনের পক্ষে শুনানি শেষে আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান রুল জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আইন অনুযায়ী একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে বহুবিধ প্রশাসনিক ও বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো গ্রাম আদালত পরিচালনা করার ক্ষমতা, যেখানে একজন চেয়ারম্যান ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক মূল্যমানের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে পারেন। অথচ সাধারণ আদালতে সমমানের ক্ষমতা প্রয়োগকারী একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে আইনে বাধ্যতামূলকভাবে স্নাতক শেষ করে বিচারক (বিজেএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।'তিনি আরও যুক্তি তুলে ধরে বলেন, 'একজন ইউপি চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে সংবিধিবদ্ধ আইনে ন্যূনতম কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি, যা অত্যন্ত অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ কারণেই আমরা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর যোগ্যতা সংক্রান্ত ২৬ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করি এবং চেয়ারম্যান পদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করার আবেদন জানাই।'

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক, কী আছে ১৪ দফায়?

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক, কী আছে ১৪ দফায়?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্মারকটিতে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে তেহরানের প্রতিশ্রুতিসহ মোট ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্মারকের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তবে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়নি বলে জানা গেছে।স্মারকের উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো হলো, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা সব ধরনের সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ কার্যক্রম বন্ধ করবে। লেবানন-সংশ্লিষ্ট সংঘাতও এর আওতায় থাকবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শক্তি প্রয়োগ বা হামলার হুমকি থেকেও বিরত থাকার অঙ্গীকার করা হয়েছে।উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। দুই পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সম্মতিতে সময়সীমা বাড়ানো যাবে।চুক্তির পর ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।ইরান দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে। বাণিজ্যিক নৌপরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে মাইন অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।ইরান অঙ্গীকার করবে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিষয় চূড়ান্ত আলোচনায় নির্ধারিত হবে।চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচি অপরিবর্তিত থাকবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা অতিরিক্ত সামরিক মোতায়েন করবে না।ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন খাতের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে।আলোচনায় অগ্রগতির ভিত্তিতে ইরানের জব্দ অর্থ ও সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করে দেওয়া হবে।চূড়ান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন এবং এর ধারাগুলোর যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করতে একটি যৌথ তদারকি কাঠামো গঠন করা হবে।বর্তমান সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর অবশিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনায় বসবে উভয় দেশ। চূড়ান্ত চুক্তিকে বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসেবে অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হবে।বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চুক্তির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও চূড়ান্ত আলোচনার ওপর নির্ভরশীল।

সকালে বাবার লাশ, রাতে ডিউটি আবার সকালে পরীক্ষার টেবিল

সকালে বাবার লাশ, রাতে ডিউটি আবার সকালে পরীক্ষার টেবিল

বাবাকে শেষ বিদায় জানিয়ে বিকেলে সম্পন্ন করেছেন দাফন। শোকের তীব্র ভারে ন্যুব্জ পরিবারকে একটু সান্ত্বনা বা সময় দেওয়ার সুযোগটুকুও পাননি। রাত নামতেই চোখের পানি মুছে হাতে বই নিয়ে তাকে ছুটতে হয়েছে এটিএম বুথের নাইট ডিউটিতে, কারণ পুরো পরিবারের জীবিকার ভার এখন তারই কাঁধে। আর ঠিক পরদিন অর্থাৎ আজ সকালেই তাকে বসতে হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার হলে। একদিকে পিতৃহারা হওয়ার অসহনীয় যন্ত্রণা, অন্যদিকে সংসারের কঠিন দায় এবং ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই- এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে অনন্য এক জীবন্ত সংগ্রামের গল্প রচনা করছেন বাগেরহাটের অদম্য তরুণ ইকন।বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা সদ্যপ্রয়াত ইসরাফিল দাড়িয়ার ছোট ছেলে ইকন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৫ বছর বয়সী ইসরাফিল দাড়িয়া। সকাল ৬টার দিকে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জীবিকার তাগিদে ইসরাফিল নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে রেখে যান। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তার মরদেহ গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।ইকনের পারিবারিক ইতিহাস যেন আরও মর্মান্তিক। পরিবার জানায়, বড় ছেলে ইমন একসময় বাবার সাথে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারে সহায়তা করতেন। কিন্তু এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এর পর থেকে পুরো সংসারের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে ছোট ছেলে ইকন। সে বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরিবারের খরচ ও ভাইয়ের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পড়াশোনার পাশাপাশি বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে সিকিউরিটির দায়িত্ব পালন করছে ইকন।বাবার দাফন সম্পন্ন করে মঙ্গলবার রাতেই তিনি দায়িত্বের খাতিরে কর্মস্থলে ফিরে যান। রাত ১০টার দিকেও এটিএম বুথে বসে চোখে জল নিয়ে একদিকে ডিউটি সামলাতে এবং অন্যদিকে বইয়ের পাতায় চোখ মেলাতে দেখা যায় তাকে। কারণ আজ তার ‘ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি’ বিষয়ের পরীক্ষা।ইকনের এই অদম্য মানসিকতা ও দায়িত্ববোধে স্তব্ধ স্থানীয়রা। বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খোন্দকার আছিফ উদ্দিন রাখী গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, 'ইকন আমাদের কলেজের অত্যন্ত দায়িত্বশীল একজন ছাত্র। জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে এত বড় শোক বুকে চেপেও সে পরিবারের দায়িত্ব ও পরীক্ষা একসাথে সামলাচ্ছে, যা সত্যি অনুপ্রেরণাদায়ক। কলেজের পক্ষ থেকে আমরা সার্বক্ষণিক তার পাশে আছি এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। আমরা তার প্রয়াত বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।'

বিশ্বকাপ দলগুলোর থাকার হোটেল ও অনুশীলন ক্যাম্প, কার ঠিকানা কোথায়?

বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট / বিশ্বকাপ দলগুলোর থাকার হোটেল ও অনুশীলন ক্যাম্প, কার ঠিকানা কোথায়?

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ২০২৬ বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম শেষেই নিজ নিজ দেশের ক্যাম্পে যোগ দেবেন ফুটবলাররা। ১০৪ ম্যাচের এই দীর্ঘ বিশ্বযুদ্ধের বেশিরভাগ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে আমেরিকার মাটিতে।বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফুটবলারদের বিশ্রাম, পুষ্টি ও অনুশীলনের সুবিধা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি দলই ম্যাচ ভেন্যুর কাছাকাছি বেছে নিয়েছে নিজেদের বেস ক্যাম্প। তারকা ফুটবলারদের জন্য এসব ক্যাম্পে থাকছে আধুনিক পারফরম্যান্স ল্যাব, জিমনেসিয়াম ও বিলাসবহুল আবাসন ব্যবস্থা।পাঠকদের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপের দলগুলোর বেস ক্যাম্প, অনুশীলনের ভেন্যু এবং গ্রুপ পর্বের ম্যাচের সময়সূচি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী দলসমূহআর্জেন্টিনা (ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন)অবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: স্পোর্টিং কেসি পারফরম্যান্স সেন্টারআবাসন: হোটেল সেভয়, কানসাস সিটিআলজেরিয়া (১৬ জুন, কানসাস সিটি), অস্ট্রিয়া (২২ জুন, ডালাস), জর্ডান (২৭ জুন, ডালাস)।বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ক্যাম্পে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দোহা ক্যাম্পের মতোই এখানেও আলবিসেলেস্তেদের জন্য থাকছে তাদের ঐতিহ্যবাহী 'বার্বিকিউ মাংস' রান্নার বিশেষ কাস্টমাইজড সুবিধা। হোটেল থেকে অনুশীলন মাঠের দূরত্ব ২০ মিনিটেরও কম।ব্রাজিলঅবস্থান: নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সিঅনুশীলন: কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং施設 (নিউ জার্সি)আবাসন: রিজ হোটেল, নিউ ইয়র্ক সিটিম্যাচের সূচি: মরক্কো (১৩ জুন, নিউ জার্সি), হাইতি (১৯ জুন, ফিলাডেলফিয়া), স্কটল্যান্ড (২৪ জুন, মায়ামি)।পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা থাকার জন্য বেছে নিয়েছে ঝলমলে নিউ ইয়র্ক সিটি ('বিগ অ্যাপেল')। তবে তারা অনুশীলন করবে পার্শ্ববর্তী নিউ জার্সিতে এমএলএস দল নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন কেন্দ্রে।জার্মানিঅবস্থান: উইনস্টন-সালেম, নর্থ ক্যারোলিনাঅনুশীলন: ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয় (ডব্লিউ ডেনি স্প্রি সকার স্টেডিয়াম)আবাসন: দ্য গ্রেলাইন এস্টেটম্যাচের সূচি: কুরাসাও (১৪ জুন, হিউস্টন), আইভরি কোস্ট (২০ জুন, টরন্টো), ইকুয়েডর (২৫ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।চারবারের চ্যাম্পিয়নরা সম্পূর্ণ গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে বিলাসবহুল বুটিক হোটেল গ্রেলাইন এস্টেট বেছে নিয়েছে। ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির এই স্টেডিয়ামটি আমেরিকার অন্যতম সেরা কলেজিয়েট ফুটবল ভেন্যু। এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশের কোনো সুযোগ থাকবে না।ফ্রান্সঅবস্থান: ওয়ালথাম, ম্যাসাচুসেটসঅনুশীলন: বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়আবাসন: ফোর সিজনস হোটেল, বোস্টনম্যাচের সূচি: সেনেগাল (১৬ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি), ইরাক (২২ জুন, ফিলাডেলফিয়া), নরওয়ে (২৬ জুন, বোস্টন)।বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফরাসি দলের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কোনো ব্যাঘাত ছাড়াই চলবে।ইংল্যান্ডঅবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: সোয়াপ সকার সেন্টারআবাসন: দ্য ইন অ্যাট মেডোব্রুকম্যাচের সূচি: ক্রোয়েশিয়া (১৭ জুন, ডালাস), ঘানা (২৩ জুন, বোস্টন), পানামা (২৭ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।হ্যারিকেনদের হোটেলটি তাদের অনুশীলন মাঠ থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। কানসাস সিটিতে ইংল্যান্ডের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা এবং নেদারল্যান্ডসও ঘাঁটি গেড়েছে।পর্তুগালঅবস্থান: পাম বিচ কাউন্টি, ফ্লোরিডাঅনুশীলন: গার্ডেন নর্থ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্টস পার্কআবাসন: ফোর সিজনস হোটেলম্যাচের সূচি: ডিআর কঙ্গো (১৭ জুন, হিউস্টন), উজবেকিস্তান (২৩ জুন, হিউস্টন), কলম্বিয়া (২৮ জুন, মায়ামি)।১০টি মাঠের এই বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল অনুশীলন করবে। এর আগে এখানে রিয়াল মাদ্রিদ দল ক্লাব বিশ্বকাপের সময় অনুশীলন করেছিল।স্পেনঅবস্থান: চ্যাটানুগা, টেনেসিঅনুশীলন: বেলর স্কুলআবাসন: দ্য অ্যাম্বাসি সুইটসম্যাচের সূচি: কেপ ভার্দে (১৫ জুন, আটলান্টা), সৌদি আরব (২১ জুন, আটলান্টা), উরুগুয়ে (২৬ জুন, গুয়াদালাহারা)।চ্যাটানুগার একটি অভিজাত ব্যক্তিগত স্কুলে অবস্থান করবে স্পেন। দলের শতভাগ গোপনীয়তা বজায় রাখতে বেলর স্কুল তাদের ক্যাম্পাসে ১০ ফুটের ব্ল্যাকআউট বেষ্টনী তৈরি করেছে।নেদারল্যান্ডসঅবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: কেসি কারেন্ট ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: হোটেল কানসাস সিটিম্যাচের সূচি: জাপান (১৪ জুন, ডালাস), সুইডেন (২০ জুন, হিউস্টন), তিউনিসিয়া (২৫ জুন, কানসাস সিটি)।ডাচরা আমেরিকার প্রথম বিশেষায়িত নারী পেশাদার ক্রীড়া দলের (কানসাস সিটি কারেন্ট) কমপ্লেক্সে অনুশীলন করবে। ঐতিহ্যবাহী 'কমলা ডাবল-ডেকার বাস' নিয়ে এবারও মাতবেন ডাচ সমর্থকরা।বেলজিয়ামঅবস্থান: রেন্টন, ওয়াশিংটনঅনুশীলন: সিয়াটল সাউন্ডার্স ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: হায়াত রিজেন্সি, সিয়াটলম্যাচের সূচি: মিশর (১৫ জুন, সিয়াটল), ইরান (২১ জুন, লস অ্যাঞ্জেলেস), নিউজিল্যান্ড (২৬ জুন, ভ্যাঙ্কুভার)।ইতালি/অন্যান্য ইউরোপীয় দলসমূহ:ক্রোয়েশিয়া: অবস্থান ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়া (এপিসকোপাল হাই স্কুল)। ম্যাচের সূচি: ইংল্যান্ড (১৭ জুন), পানামা (২৩ জুন), যুক্তরাষ্ট্র (২৭ জুন)।অস্ট্রিয়া: অবস্থান সান্টা বারবারা, ক্যালিফোর্নিয়া। হোটেলের নাম রিৎজ-কার্লটন।সুইডেন: ফ্রিসকো, টেক্সাস (এফসি ডালাস স্টেডিয়াম)। ১৮২ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সংস্কার করা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে তারা।সুইজারল্যান্ড: সান ডিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া। হোটেল থেকে একাডেমির দূরত্ব মাত্র ৮ মিনিট।চেক প্রজাতন্ত্র: ম্যানসফিল্ড, টেক্সাস (ম্যানসফিল্ড মাল্টিপারপাস স্টেডিয়াম)।এশিয়ান ও আফ্রিকান পরাশক্তিদের ক্যাম্প:জাপান: অ্যান্টিওক, টেনেসি (ন্যাশভিল এসসি ভ্যান্ডারবিল্ট হেলথ ট্রেনিং সেন্টার)।সৌদি আরব: অস্টিন, টেক্সাস (অস্টিন এফসি স্টেডিয়াম)। ২০৩৪ বিশ্বকাপের একক আয়োজক দেশটি থাকবে অস্টিনের ফোর সিজনস হোটেলে।মিশর: স্পোকেন, ওয়াশিংটন (গনজাগা বিশ্ববিদ্যালয়)। মোহাম্মদ সালাহর দল মূলত পশ্চিম উপকূল কেন্দ্রিক ম্যাচগুলো খেলবে।আইভরি কোস্ট: চেস্টার, পেনসিলভানিয়া (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন সুবারু পার্ক)।সেনেগাল: পিসকাটাওয়ে, নিউ (রুটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়)।ঘানা: স্মিথফিল্ড, রোড আইল্যান্ড (ব্রায়ান্ট বিশ্ববিদ্যালয়)।উজবেকিস্তান (নবাগত): ম্যারিয়েটা, জর্জিয়া (আটলান্টা ইউনাইটেড ট্রেনিং সেন্টার)।ইরাক: হোয়াইট সালফার স্প্রিংস, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া (দ্য গ্রিনব্রিয়ার রিসোর্ট)। যেখানে পূর্বে ২৮ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবস্থান করেছেন, সেই রাজকীয় রিসোর্টে থাকবে ইরাক দল।আলজেরিয়া: লরেন্স, কানসাস (কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়)।লাতিন ও উত্তর আমেরিকার অন্যান্য দল:যুক্তরাষ্ট্র (স্বাগতিক): আরভাইন, ক্যালিফোর্নিয়া (গ্রেট পার্ক স্পোর্টস কমপ্লেক্স)। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বিমানঘাঁটিতে তৈরি এই ক্যাম্পকে 'অনবদ্য' আখ্যা দিয়েছেন ইউএস সকারের ডিরেক্টর।অস্ট্রেলিয়া: ওকল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়া (ক্লেয়ারমন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড ক্লাব)।প্যারাগুয়ে: সান জোসে, ক্যালিফোর্নিয়া (সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটি)।ইকুয়েডর: কলম্বাস, ওহিও (কলম্বাস ক্রু পারফরম্যান্স সেন্টার)।ডিআর কঙ্গো: হিউস্টন, টেক্সাস (হিউস্টন স্পোর্টস পার্ক)।কেপ ভার্দে (নবাগত): টাম্পা, ফ্লোরিডা (ওয়াটার্স স্পোর্টসপ্লেক্স)।কুরাসাও (নবাগত): পাম বিচ কাউন্টি, ফ্লোরিডা (ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়)।জর্ডান (নবাগত): পোর্টল্যান্ড, ওরেগন (পোর্টল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়)।মেক্সিকো (স্বাগতিক)অবস্থান: মেক্সিকো সিটিপ্রশিক্ষণ ও আবাসন: সেন্ট্রো ডি আল্টো রেন্ডিমিয়েন্টো (CAR)ম্যাচের সূচি: দক্ষিণ আফ্রিকা (১১ জুন, মেক্সিকো সিটি), দক্ষিণ কোরিয়া (১৮ জুন, গুয়াদালাহারা), চেকিয়া (২৪ জুন, মেক্সিকো সিটি)।মেক্সিকো তাদের নিজেদের ঘরের মাঠের আবহ এবং উচ্চতার সুবিধা (Altitude Advantage) শতভাগ কাজে লাগাতে রাজধানীতেই ক্যাম্প করেছে। এই হাই-পারফরম্যান্স কেন্দ্রটি ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম থেকে মাত্র ১৫ মিনিট দূরে, যা একই সাথে খেলোয়াড়দের থাকা ও অনুশীলনের জায়গা হিসেবে কাজ করবে।কলম্বিয়াঅবস্থান: গুয়াদালাহারা, মেক্সিকোঅনুশীলন: অ্যাটলাস এজিএ একাডেমিআবাসন: গ্র্যান্ড ফিয়েস্তা আমেরিকানা কান্ট্রি ক্লাবউজবেকিস্তান (১৭ জুন, মেক্সিকো সিটি), ডিআর কঙ্গো (২৩ জুন, গুয়াদালাহারা), পর্তুগাল (২৭ জুন, মায়ামি)।বিশেষত্ব: ২০২৩ সালে উদ্বোধন করা এই আধুনিক পারফরম্যান্স সেন্টারে ছয়টি পেশাদার মাঠ এবং স্পোর্টস সায়েন্স মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।মেক্সিকোর অন্যান্য ক্যাম্প:দক্ষিণ কোরিয়া: গুয়াদালাহারা (চিভাস ভার্দে ভালে)। উচ্চতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য এই শহরটিকে বেছে নিয়েছে তারা।দক্ষিণ আফ্রিকা: পাচুকা (ইউনিভার্সিদাদ দেল ফুটবল)। এখানে একটি ফিফা-সার্টিফাইড মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।তিউনিসিয়া: মনটেনি (এল বারিয়াল ট্রেনিং সেন্টার)। লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রিমিয়াম ফুটবল সুবিধা এটি।প্লেয়া ডেল কারমেন, কুইন্টানা রু (মায়াকোবা ট্রেনিং সেন্টার)। বিমানবন্দর ও হোটেলের কাছাকাছি বিলাসবহুল রিসোর্ট সিটিতে থাকবে সুয়ারেজ-ভালভার্দের দেশ।কানাডা অবস্থান: ভ্যাঙ্কুভার, ব্রিটিশ কলম্বিয়াঅনুশীলন: ন্যাশনাল সকার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারআবাসন: দ্য ওয়েস্টিন বেশোর, ভ্যাঙ্কুভারম্যাচের সূচি: বসনিয়া (১২ জুন, টরন্টো), কাতার (১৮ জুন, ভ্যাঙ্কুভার), সুইজারল্যান্ড (২৪ জুন, ভ্যাঙ্কুভার)।স্বাগতিক দেশের সুবিধা নিয়ে কানাডা ভ্যাঙ্কুভারে বেস ক্যাম্প করেছে। গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচের ২টিই তারা ঘরের মাঠে খেলবে।পানামাঅবস্থান: নিউ টেকুমসেথ, ওন্টারিওঅনুশীলন: নোটাওয়াসাগা ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: নোটাওয়াসাগা রিসোর্ট অ্যান্ড কনফারেন্স সেন্টারম্যাচের সূচি: ঘানা (১৭ জুন, টরন্টো), ক্রোয়েশিয়া (২৩ জুন, টরন্টো), ইংল্যান্ড (২৭ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।কানাডা নিজেদের দল ছাড়া একমাত্র পানামাকেই তাদের দেশের মাটিতে বেস ক্যাম্প করার অনুমতি দিয়েছে।ইরানঅবস্থান: তিজুয়ানা, মেক্সিকো (যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের ঠিক বিপরীতে)ম্যাচের সূচি: নিউজিল্যান্ড (১৫ জুন), বেলজিয়াম (২১ জুন), মিশর (২৬ জুন)।রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা জনিত বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে ইরানের বিশ্বকাপ ক্যাম্প নিয়ে বেশ জলঘোলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দলটিকে স্বাগত জানালেও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। ফলে নির্বিঘ্নে অনুশীলনের জন্য আমেরিকার সান ডিয়েগোর ঠিক বিপরীতে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিজুয়ানায় বেস ক্যাম্প সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইরান ফুটবল ফেডারেশন, যা ফিফা কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।সব মিলিয়ে ফুটবলারদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স আদায় করে নিতে আয়োজক শহরগুলো এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মাঠের লড়াইয়ে কোন ক্যাম্পের কৌশল কতটা কাজে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

চাকরি

কোন পোস্ট নেই !
জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রে ২১ দিনে সাড়ে ১৯ হাজার ওষুধ গায়েব!

জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রে ২১ দিনে সাড়ে ১৯ হাজার ওষুধ গায়েব!

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে মাত্র ২১ দিনে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধ গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে সাধারণ ওষুধ না পাওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এসব তথ্য সামনে আনেন জাকসু নেতারা।​অভিযানে গায়েব হওয়া ওষুধের যে তালিকা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে অ্যালাট্রল ৪ হাজার ৬৪৫ পিস, অ্যাজিথ্রোমাইসিন ৯১২ পিস, সিপ্রোসিন ৪২০ পিস, প্যারাসিটামল ৫ হাজার পিস, টিমোনিয়াম ৭০০ পিস, ফ্যামোটিডিন ২ হাজার ৫০০ পিস, অ্যান্টানিল ২০০ পিস, ন্যাপ্রো ৯৯০ পিস এবং ডমপেরিডোন ৪ হাজার ২০০ পিস।​অভিযান শেষে জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্পাদক হুসনি মোবারক বলেন, 'আমরা কিছুদিন যাবৎ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাচ্ছিলাম যে চিকিৎসাকেন্দ্রে কিছু বেসিক ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। গত মাসের ৩০ তারিখে প্রায় ২ লাখ টাকার ওষুধ চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রদান করা হয়েছিল, যা এক মাস যাওয়ার কথা। কিন্তু ১৫ দিন যেতে না যেতেই ওষুধের জোগান ফুরিয়ে যাওয়ার তথ্য আমাদের কাছে খটকা লাগে। তাই পূর্বঘোষণা ছাড়াই আজ আমরা তাৎক্ষণিক অভিযানে আসি। এখানে এসে দেখতে পাই, অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামল থেকে শুরু করে ব্যথার ওষুধসহ প্রত্যেকটি ওষুধেই বিশাল অঙ্কের গরমিল রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, জেনেশুনেই এই কারচুপি করা হয়েছে। গত ২০ দিনে প্রায় ৭৩ হাজার ১১০ টাকা সমমূল্যের সাড়ে ১৯ হাজারের বেশি ওষুধ মিসিং পেয়েছি। স্টোরকিপারকে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানাব। আমরা পূর্বের মাসগুলোর হিসাবও যাচাই-বাছাই করব। আশা করি, প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।'​তবে অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সুস্পষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামাল বলেন, 'এই ২০-২১ দিনের মধ্যে এতগুলো ওষুধ গায়েব হওয়ার বিষয়ে আমি বলব, অবশ্যই আমার অবর্তমানে এটা হয়েছে। কিন্তু আমি তো সাধারণত কাউকে চাবি দিই না। কীভাবে এত ওষুধ গায়েব হতে পারে, তা বুঝতে পারছি না।'​জাবির চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, 'ওষুধ কমে গেলে আমি প্রতিদিন চেক করি। ফার্মেসিতে গিয়ে ইনডেন্ট দেখি, যখন দেখি ঘরে ‘নিল’ (শূন্য) লেখা, তখন স্টোরকিপারকে জিজ্ঞেস করি। তিনি বলেন, যে পরিমাণ সাপ্লাই দেওয়া হয়েছিল তা শেষ হয়ে গেছে। তার সব স্টক লেজার মেনটেইন করা উচিত। চাবি যেহেতু তার কাছেই থাকে, তাই গরমিলটা কোথায় হলো, সেই জবাব তাকেই (নুর-এ-কামাল) দিতে হবে।'​এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. সালেকুল ইসলাম বলেন, '২১ দিনে যদি ৭৬ হাজার টাকার ওষুধ গায়েব হয়ে থাকে, তবে এটি বড় ঘটনা। আমরা এক বছর ধরে যে ওষুধ দিয়েছি, সেটার কোনো অডিট করা হয়নি। আমরা প্রতিদিন একজন শিক্ষার্থীর কয়টি ওষুধ লাগতে পারে, তার একটি হিসাব করে দেখেছি। আমার মনে হয়েছে এখানে সমস্যা আছে, তাই সব কাজ বাদ দিয়ে আজ এসেছি। আমরা চাই পেছনের ব্যাকলগসহ ক্যালকুলেশন করে এক বছর বা তারও পেছনের ইনভেস্টিগেশন করা হোক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, 'দুই দিন পরপরই চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ওষুধের চাহিদা দেওয়া হতো। ওষুধ আসলে যায় কোথায়, সেটি খুঁজে বের করতেই আমি অধ্যাপক সালেকুল, জাকসু নেতা মোবারকসহ আমার অফিস ও হিসাবরক্ষণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছিলাম। তারা আজকের এই গরমিলগুলো ফাইন্ড আউট করেছে, এটি কেবল শুরু। আমরা একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করে ওষুধ কেনাকাটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথায় কোথায় অনিয়ম হয়েছে, তা খুঁজে বের করব। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

অনলাইন জরিপ
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৪.০৫ টাকা বাড়াতে চায় বাস মালিকরা। আপনি কি বাস মালিকদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করছেন?

বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৪.০৫ টাকা বাড়াতে চায় বাস মালিকরা। আপনি কি বাস মালিকদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করছেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

এভিয়েশন

কোন পোস্ট নেই !

শিশু কিশোর

কোন পোস্ট নেই !

আর্কাইভ

কোন পোস্ট নেই !

আর্কাইভ

কোন পোস্ট নেই !