কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন ভুইয়া এ সমন জারি করেন।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এর আগে সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলার অভিযোগে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।বাদী হুমায়ুন কবির জানান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর নির্দেশে তিনি মামলাটি করেছেন। তার অভিযোগ, প্রকাশ্যে মন্ত্রীকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হন। তবে মামলায় অর্থের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। তিনি আরও জানান, দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হায়দার (রফিক সরকার) বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণ আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আদালত তা গ্রহণ করে সমন জারি করেছেন। নির্ধারিত তারিখে হাজির না হলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, গত ২৬ মার্চ জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মুফতি আমির হামজা প্রকাশ্যে তাকে ইসলামবিদ্বেষী ও নাস্তিক আখ্যা দেন। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।তিনি দাবি করেন, মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিয়মিত নামাজ-রোজা পালনসহ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন। স্থানীয় আলেমরাও তার বক্তব্যকে ইসলামবিরোধী নয় বলে মত দিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, তারা চাইলে আন্দোলনে যেতে পারতেন, তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মুফতি আমির হামজা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন বলে শোনা গেছে, তবে তারা জনসম্মুখে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।এর আগে গত সোমবার (৩০ মার্চ) সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার একটি মানহানির মামলাও দায়ের করেন।