বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

এক্সক্লুসিভ

সরকারি জমি জবর দখল করে বসতি স্থাপন

সরকারি জমি জবর দখল করে বসতি স্থাপন
সরকারি জমিতে স্থাপিত বাড়ি। ছবি: বিপ্লবী বার্তা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ভাটিগোপালদী এলাকায় সরকারি খাস জমি ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও রেকর্ড জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন। ইতোমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নোটিশ জারি হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুখালী উপজেলার ১০২ নং বড় গোপালদী মৌজার বিএস খতিয়ান নং-০১ এর অন্তর্ভুক্ত সরকারি খাস জমি এবং জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সৃষ্টি। বহু বছর ধরে স্থানীয়দের কাছে “মোল্লাদের ঘাট” নামে পরিচিত স্থানটি সাধারণ মানুষের চলাচল, কৃষিকাজ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্থানীয় কৃষকরা এই পথ দিয়ে মাঠের পাট নদীতে নিয়ে যেতেন এবং এলাকাবাসী গোসল ও গবাদিপশুর গোসলের কাজেও ঘাটটি ব্যবহার করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রব মোল্লা, তার ছোট ভাই আলাল মোল্লা এবং জাহাঙ্গীর মোল্লা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে এই সরকারি জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বের এসএ, আরএস ও সিএস রেকর্ডে যেসব জায়গা সরকারি রাস্তা, নালা ও জনসাধারণের চলাচলের পথ হিসেবে চিহ্নিত ছিল, সেগুলো পরবর্তীতে বিএস রেকর্ডে ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসেবে দেখানো হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই পরিবর্তন পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।

প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, বিএস দাগ নং ৭৬৭৫-এর প্রায় ৭ শতাংশ সরকারি খাস জমির ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিএস দাগ নং ৭৬৭৩-এর প্রায় ২২ শতাংশ সরকারি খাস জমির ওপরও পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের বিষয় উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। নোটিশে জমির শ্রেণি “নালা” হিসেবে উল্লেখ থাকায় স্থানীয়দের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। কেউ আপত্তি তুললে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সামাজিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ৫ আগস্ট (২০২৪) পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এলাকায় নতুন করে প্রভাব বিস্তার শুরু হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "আগে মানুষ যেই রাস্তা দিয়ে চলাচল করত, এখন সেখানে দেয়াল তুলে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষকরা মাঠের পাট আনতে সমস্যায় পড়ছেন। সাধারণ মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে গেছে।"

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, "দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি সরকারি জমি দখল বা অনিয়ম করে, তার দায় দল নেবে না। জনগণের চলাচলের পথ বন্ধ করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।"

ভূমি সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণে বিএস খতিয়ান ও পূর্ববর্তী এসএ/আরএস রেকর্ডের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিষয় উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি জমি উদ্ধার এবং রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সরকারি সম্পত্তি ও জনসাধারণের চলাচলের অধিকার পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জমি দখল রাজনৈতিক বসতি স্থাপন

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


সরকারি জমি জবর দখল করে বসতি স্থাপন

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ভাটিগোপালদী এলাকায় সরকারি খাস জমি ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও রেকর্ড জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন। ইতোমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নোটিশ জারি হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুখালী উপজেলার ১০২ নং বড় গোপালদী মৌজার বিএস খতিয়ান নং-০১ এর অন্তর্ভুক্ত সরকারি খাস জমি এবং জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সৃষ্টি। বহু বছর ধরে স্থানীয়দের কাছে “মোল্লাদের ঘাট” নামে পরিচিত স্থানটি সাধারণ মানুষের চলাচল, কৃষিকাজ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্থানীয় কৃষকরা এই পথ দিয়ে মাঠের পাট নদীতে নিয়ে যেতেন এবং এলাকাবাসী গোসল ও গবাদিপশুর গোসলের কাজেও ঘাটটি ব্যবহার করতেন।


অভিযোগ রয়েছে, রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রব মোল্লা, তার ছোট ভাই আলাল মোল্লা এবং জাহাঙ্গীর মোল্লা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে এই সরকারি জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বের এসএ, আরএস ও সিএস রেকর্ডে যেসব জায়গা সরকারি রাস্তা, নালা ও জনসাধারণের চলাচলের পথ হিসেবে চিহ্নিত ছিল, সেগুলো পরবর্তীতে বিএস রেকর্ডে ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসেবে দেখানো হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই পরিবর্তন পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।


প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, বিএস দাগ নং ৭৬৭৫-এর প্রায় ৭ শতাংশ সরকারি খাস জমির ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিএস দাগ নং ৭৬৭৩-এর প্রায় ২২ শতাংশ সরকারি খাস জমির ওপরও পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।


এদিকে, সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের বিষয় উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। নোটিশে জমির শ্রেণি “নালা” হিসেবে উল্লেখ থাকায় স্থানীয়দের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। কেউ আপত্তি তুললে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সামাজিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ৫ আগস্ট (২০২৪) পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এলাকায় নতুন করে প্রভাব বিস্তার শুরু হয়।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "আগে মানুষ যেই রাস্তা দিয়ে চলাচল করত, এখন সেখানে দেয়াল তুলে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষকরা মাঠের পাট আনতে সমস্যায় পড়ছেন। সাধারণ মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে গেছে।"


স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, "দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি সরকারি জমি দখল বা অনিয়ম করে, তার দায় দল নেবে না। জনগণের চলাচলের পথ বন্ধ করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।"


ভূমি সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণে বিএস খতিয়ান ও পূর্ববর্তী এসএ/আরএস রেকর্ডের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিষয় উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি জমি উদ্ধার এবং রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সরকারি সম্পত্তি ও জনসাধারণের চলাচলের অধিকার পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা