কক্সবাজারের চকরিয়ায় দেশের বহুল আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালত প্রাঙ্গণে। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কড়া পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “মোট ১৮ জন আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত এই দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।”
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণাকালে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের আলাদা পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিশ্চিত করা না গেলেও এই মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। রায়ে নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিমের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে যায় সেনাবাহিনীর একটি দল। অভিযান চলাকালীন ডাকাত দলের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে নিহত হন তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। এই ঘটনাটি সেসময় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দেয়।
হত্যাকাণ্ডের পর ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতিসহ হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পান চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী।
তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় এজাহারভুক্ত ও নতুন আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি, তাদের বাদ দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, আনোয়ার হাকিম, জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, শাহ আলম, আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল ও মিনহাজ উদ্দিন।
উল্লেখ্য, নিহত দূরন্ত ও মেধাবী সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিমের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) থেকে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
কক্সবাজারের চকরিয়ায় দেশের বহুল আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালত প্রাঙ্গণে। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কড়া পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “মোট ১৮ জন আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত এই দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।”
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণাকালে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের আলাদা পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিশ্চিত করা না গেলেও এই মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। রায়ে নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিমের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে যায় সেনাবাহিনীর একটি দল। অভিযান চলাকালীন ডাকাত দলের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে নিহত হন তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। এই ঘটনাটি সেসময় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দেয়।
হত্যাকাণ্ডের পর ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতিসহ হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পান চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী।
তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় এজাহারভুক্ত ও নতুন আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি, তাদের বাদ দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, আনোয়ার হাকিম, জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, শাহ আলম, আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল ও মিনহাজ উদ্দিন।
উল্লেখ্য, নিহত দূরন্ত ও মেধাবী সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিমের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) থেকে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন