রাজধানীতে মেট্রোভিত্তিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। উড়াল ও পাতালপথের সমন্বয়ে নির্মিতব্য এই মেট্রোরেল হেমায়েতপুর থেকে গাবতলী, কচুক্ষেত ও বনানী হয়ে ভাটারা পর্যন্ত চলবে।
মোট ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের মধ্যে ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার হবে পাতালপথে এবং ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথে। ১৪টি স্টেশনের মধ্যে ৯টি হবে ভূগর্ভস্থ এবং ৫টি উড়ালপথে। পুরো রুটে যাতায়াতে সময় লাগবে মাত্র ৩২ মিনিট। প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১০টি প্যাকেজের মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম করিডরের এই রুটের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। বর্তমানে হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ চলছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটির অগ্রগতি ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
২০১৯ সালে এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৬১ কোটি টাকা। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পাতাল অংশ বেশি হওয়ায় লাইন-১ এর মতো এ প্রকল্পের ব্যয়ও কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এম শামসুল হক বলেন, মেট্রোরেল মূলত গণপরিবহন হওয়ায় এর নির্মাণ ও পরিচালন ব্যয় সহনীয় রাখতে হবে। তার মতে, অতিরিক্ত ব্যয় হলে যাত্রীভাড়াও বেড়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
আরেক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ভাড়া এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ সহজে ব্যবহার করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পাতাল ও উড়ালপথের মিশ্রণে প্রকল্প ব্যয় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে সড়ক ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, ভূগর্ভস্থ মেট্রো নির্মাণে স্বাভাবিকভাবেই ব্যয় বাড়ে এবং এর প্রভাব যাত্রীদের ওপরও পড়তে পারে। তিনি জানান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় সমীক্ষা চলছে এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
মেট্রোরেল সূত্র জানিয়েছে, ভাড়া নির্ধারণ করা হবে মেট্রোরেল আইন-২০১৫ ও মেট্রোরেল বিধিমালা-২০১৬ অনুযায়ী। ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরীর প্রথম পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তরা-মতিঝিল রুটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এমআরটি লাইন-৫ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ ভূগর্ভস্থ মেট্রোর পরিচালনা ব্যয় অত্যন্ত বেশি এবং তা এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ রাখা সম্ভব নয়।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
রাজধানীতে মেট্রোভিত্তিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। উড়াল ও পাতালপথের সমন্বয়ে নির্মিতব্য এই মেট্রোরেল হেমায়েতপুর থেকে গাবতলী, কচুক্ষেত ও বনানী হয়ে ভাটারা পর্যন্ত চলবে।
মোট ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের মধ্যে ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার হবে পাতালপথে এবং ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথে। ১৪টি স্টেশনের মধ্যে ৯টি হবে ভূগর্ভস্থ এবং ৫টি উড়ালপথে। পুরো রুটে যাতায়াতে সময় লাগবে মাত্র ৩২ মিনিট। প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১০টি প্যাকেজের মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম করিডরের এই রুটের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। বর্তমানে হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ চলছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটির অগ্রগতি ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
২০১৯ সালে এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৬১ কোটি টাকা। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পাতাল অংশ বেশি হওয়ায় লাইন-১ এর মতো এ প্রকল্পের ব্যয়ও কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এম শামসুল হক বলেন, মেট্রোরেল মূলত গণপরিবহন হওয়ায় এর নির্মাণ ও পরিচালন ব্যয় সহনীয় রাখতে হবে। তার মতে, অতিরিক্ত ব্যয় হলে যাত্রীভাড়াও বেড়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
আরেক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ভাড়া এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ সহজে ব্যবহার করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পাতাল ও উড়ালপথের মিশ্রণে প্রকল্প ব্যয় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে সড়ক ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, ভূগর্ভস্থ মেট্রো নির্মাণে স্বাভাবিকভাবেই ব্যয় বাড়ে এবং এর প্রভাব যাত্রীদের ওপরও পড়তে পারে। তিনি জানান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় সমীক্ষা চলছে এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
মেট্রোরেল সূত্র জানিয়েছে, ভাড়া নির্ধারণ করা হবে মেট্রোরেল আইন-২০১৫ ও মেট্রোরেল বিধিমালা-২০১৬ অনুযায়ী। ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরীর প্রথম পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তরা-মতিঝিল রুটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এমআরটি লাইন-৫ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ ভূগর্ভস্থ মেট্রোর পরিচালনা ব্যয় অত্যন্ত বেশি এবং তা এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ রাখা সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন