বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

ধর্ম ও জীবন

ফিতনার ভয়াবহতা থেকে বাঁচার উপায়

ফিতনার ভয়াবহতা থেকে বাঁচার উপায়

বর্তমান অস্থির সময়ে একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজের ইমান ও আমলকে নিরাপদ রাখা। ইসলামি পরিভাষায় এই বহুমুখী সংকটকে ‘ফিতনা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ফিতনা কেবল বিপদ-আপদ নয়, বরং এটি মানুষের সত্যনিষ্ঠা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘মানুষ কি মনে করে, আমরা ঈমান এনেছি বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া হবে?’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ২)।

ইসলামি স্কলারদের মতে, ফিতনা মূলত দুই প্রকার। প্রথমটি হলো প্রবৃত্তির ফিতনা, যা সম্পদ, নারী বা জাগতিক ভোগ-বিলাসের মোহের মাধ্যমে মানুষের ইমানকে দুর্বল করে। দ্বিতীয়টি হলো সন্দেহের ফিতনা, যা মূলত ধর্মীয় বিভ্রান্তি, অপব্যাখ্যা ও বিদআতের মাধ্যমে মানুষের আকিদাকে কলুষিত করে।

সমাজে ফিতনা ছড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:

মানুষ যখন আল্লাহর বিধানের চেয়ে নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়, তখন সে পথভ্রষ্ট হয়।

ধর্মের নামে অতিরিক্ত কঠোরতা বা অতি শিথিলতা—উভয়ই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা ফিতনার অন্যতম বড় কারণ। এ প্রসঙ্গে কোরআনে ফাসিকের আনা সংবাদ যাচাই করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরকালের চেয়ে দুনিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ফিতনার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন, ফিতনা মানুষের অন্তরকে ধীরে ধীরে অন্ধকার করে দেয়। একপর্যায়ে মানুষের অন্তর এমনভাবে কলুষিত হয় যে, সে ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে (সহিহ মুসলিম)।

ফিতনার এই অন্ধকার থেকে বাঁচতে ইসলাম সুনির্দিষ্ট কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছে:

১. দোয়া ও আশ্রয়: নামাজের শেষ বৈঠকে দাজ্জালসহ জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত আশ্রয় চাওয়া।

২. কোরআন-সুন্নাহর অনুসরণ: সব ধরনের বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের আদর্শকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা।

৩. আলেমদের সংস্পর্শ: একাকী না থেকে আল্লাহভীরু আলেম ও দ্বীনদার নেককারদের সাহচর্যে থাকা এবং মুসলিম জামাতের সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকা।

৪. ইবাদতে নিমগ্ন হওয়া: বিশৃঙ্খলার সময়ে নফল ইবাদত ও তওবায় মশগুল থাকা হিজরতের সমতুল্য সওয়াবের কাজ।

৫. ধৈর্য ও প্রজ্ঞা: যেকোনো পরিস্থিতিতে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য ও হেকমতের (প্রজ্ঞা) সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা।

ফিতনা আমাদের ইমানি শক্তিকে দুর্বল করার একটি মাধ্যম মাত্র। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে দায়িত্ব হলো নিজের ইমান রক্ষায় সজাগ থাকা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে সব ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকা। তবেই ইহকাল ও পরকালে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ইসলাম ধর্ম ফিতনা

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


ফিতনার ভয়াবহতা থেকে বাঁচার উপায়

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বর্তমান অস্থির সময়ে একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজের ইমান ও আমলকে নিরাপদ রাখা। ইসলামি পরিভাষায় এই বহুমুখী সংকটকে ‘ফিতনা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ফিতনা কেবল বিপদ-আপদ নয়, বরং এটি মানুষের সত্যনিষ্ঠা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘মানুষ কি মনে করে, আমরা ঈমান এনেছি বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া হবে?’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ২)।



ইসলামি স্কলারদের মতে, ফিতনা মূলত দুই প্রকার। প্রথমটি হলো প্রবৃত্তির ফিতনা, যা সম্পদ, নারী বা জাগতিক ভোগ-বিলাসের মোহের মাধ্যমে মানুষের ইমানকে দুর্বল করে। দ্বিতীয়টি হলো সন্দেহের ফিতনা, যা মূলত ধর্মীয় বিভ্রান্তি, অপব্যাখ্যা ও বিদআতের মাধ্যমে মানুষের আকিদাকে কলুষিত করে।



সমাজে ফিতনা ছড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:

মানুষ যখন আল্লাহর বিধানের চেয়ে নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়, তখন সে পথভ্রষ্ট হয়।

ধর্মের নামে অতিরিক্ত কঠোরতা বা অতি শিথিলতা—উভয়ই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।


বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা ফিতনার অন্যতম বড় কারণ। এ প্রসঙ্গে কোরআনে ফাসিকের আনা সংবাদ যাচাই করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


পরকালের চেয়ে দুনিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।



রাসুলুল্লাহ (সা.) ফিতনার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন, ফিতনা মানুষের অন্তরকে ধীরে ধীরে অন্ধকার করে দেয়। একপর্যায়ে মানুষের অন্তর এমনভাবে কলুষিত হয় যে, সে ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে (সহিহ মুসলিম)।



ফিতনার এই অন্ধকার থেকে বাঁচতে ইসলাম সুনির্দিষ্ট কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছে:


১. দোয়া ও আশ্রয়: নামাজের শেষ বৈঠকে দাজ্জালসহ জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত আশ্রয় চাওয়া।

২. কোরআন-সুন্নাহর অনুসরণ: সব ধরনের বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের আদর্শকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা।

৩. আলেমদের সংস্পর্শ: একাকী না থেকে আল্লাহভীরু আলেম ও দ্বীনদার নেককারদের সাহচর্যে থাকা এবং মুসলিম জামাতের সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকা।

৪. ইবাদতে নিমগ্ন হওয়া: বিশৃঙ্খলার সময়ে নফল ইবাদত ও তওবায় মশগুল থাকা হিজরতের সমতুল্য সওয়াবের কাজ।

৫. ধৈর্য ও প্রজ্ঞা: যেকোনো পরিস্থিতিতে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য ও হেকমতের (প্রজ্ঞা) সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা।



ফিতনা আমাদের ইমানি শক্তিকে দুর্বল করার একটি মাধ্যম মাত্র। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে দায়িত্ব হলো নিজের ইমান রক্ষায় সজাগ থাকা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে সব ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকা। তবেই ইহকাল ও পরকালে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা