মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কমান্ড সেন্টার, সদর দপ্তর ও গোয়েন্দাকেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরানের
ছবিঃ সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের পরিচালিত অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ-৪’-এর আওতায় চালানো চতুর্দশ দফা হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড সেন্টার এবং সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কেন্দ্র ও সামরিক সরঞ্জাম ডিপো ধ্বংস করার দাবিও করেছে ইরান। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে আজ মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আজ ভোরে আইআরজিসি নৌবাহিনী বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে একযোগে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই অভিযানে অন্তত ২০টি ড্রোন এবং ৩টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। হামলায় বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড ভবন ও সদর দপ্তর ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি সেখানকার জ্বালানি ডিপোগুলোতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যার ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী বহু দূর থেকে প্রত্যক্ষ করা গেছে।


এই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আইআরজিসি তাদের ত্রয়োদশ দফা অভিযানের কথা প্রকাশ করে। জানানো হয়, কুয়েতের আরিফজান এয়ারফিল্ডে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ইউনিট এই হামলা পরিচালনা করে। এতে সেখানে অবস্থিত মার্কিন ইন্টেলিজেন্স সেন্টার বা গোয়েন্দা কেন্দ্র এবং সামরিক সহায়তা গুদামগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইআরজিসি এক কড়া হুঁশিয়ারিতে বলেছে, শত্রুদের বুঝতে হবে যে তাদের দাপটের দিন শেষ এবং তারা এখন নিজেদের ঘরেও কোনো নিরাপত্তা খুঁজে পাবে না। বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচার ও জায়নবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে বলেও তারা ঘোষণা দিয়েছে।


বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিবিহীন আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই ইরান পাল্টা আঘাত হানছে। সোমবার গভীর রাতে নৌ ও মহাকাশ ইউনিটের সমন্বয়ে শুরু হওয়া এই ‘উচ্চ ঘনত্বের’ অভিযানে কেবল উপসাগরীয় অঞ্চলই নয়, বরং ইসরায়েল অধিকৃত বীরশেবা শহরের যোগাযোগ শিল্প কমপ্লেক্স এবং তেল আবিব, পশ্চিম আল-কুদস ও গ্যালিলির অন্তত ২০টি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে।


ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিরোধ যুদ্ধে তারা এ পর্যন্ত ৭ শতাধিক ড্রোন এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রায় ৬০টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু এবং ৫০০টি সামরিক স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করছে, এবারের হামলার ব্যাপ্তি ও সাফল্যের হার ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠায় বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।