ধনকুবেরদের দুবাই ত্যাগের হিড়িক, সুযোগে কয়েক গুণ বাড়লো প্রাইভেট জেটের ভাড়া
ছবিঃ বিপ্লবীবার্তা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাবে দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে তেহরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার পর অচল হয়ে পড়েছে আরবের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাই। গত শনিবার থেকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাব ‘দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে বসবাসরত বিশ্বের প্রভাবশালী ধনকুবেররা চরম বিপাকে পড়েছেন। বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় এখন ব্যক্তিগত বিমান বা ‘প্রাইভেট জেট’-ই তাদের দেশ ত্যাগের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


হামলা ও পাল্টা-হামলার জেরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু দুবাই বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে কয়েকশ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কয়েক হাজার যাত্রী সেখানে আটকা পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দুবাইয়ের অতি-ধনীরা এখন বিকল্প পথ হিসেবে চার ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ওমানের দিকে ছুটছেন। ওমানের মাস্কাট বিমানবন্দর এখনো সচল থাকায় সেখানে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে বুকিং সাইটগুলোর তথ্যমতে, মাস্কাট থেকে ইউরোপগামী বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বুক হয়ে আছে।


এই চরম সংকটের সুযোগে ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া এখন চলে গেছে সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাস্কাটভিত্তিক প্রাইভেট জেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘জেটভিআইপি’ জানিয়েছে, ছোট আকারের একটি জেটে করে ইস্তাম্বুল যাওয়ার জন্য এখন প্রায় ৮৫ হাজার ইউরো খরচ করতে হচ্ছে, যা স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। অন্যদিকে, ‘বিমান প্রাইভেট জেটস’-এর প্রধান নির্বাহী আমির নারান জানিয়েছেন, রিয়াদ থেকে ইউরোপের একটি ফ্লাইটের খরচ এখন ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঠেকেছে।


ভাড়া বাড়লেও নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিমা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক বেসরকারি কোম্পানি তাদের উড়োজাহাজ পরিচালনা বন্ধ রেখেছে। অস্ট্রিয়াভিত্তিক চার্টার ফার্ম ‘অ্যালবাজেট’ জানিয়েছে, তাদের খুব কম সংখ্যক উড়োজাহাজ এখন ফাঁকা রয়েছে এবং মালিকপক্ষের আপত্তিতে অনেক অপারেটর এই মুহূর্তে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইছে না।


এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সেমাফোর’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুবাই ও আবুধাবিতে বসবাসরত ধনকুবেররা এখন বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে দেশ ছাড়ার গুপ্ত পথ খুঁজছেন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, অনেকে সৌদি আরবে ১০ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার জন্য লাখ লাখ ডলার খরচ করতেও রাজি আছেন, যাতে সেখান থেকে কোনোভাবে ব্যক্তিগত জেটে চড়ে ইউরোপে পাড়ি জমানো যায়। আকাশপথ রুদ্ধ হওয়ায় এবং যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠায় বিলাসপুরী দুবাইয়ে এখন কেবলই অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের ছবি ফুটে উঠছে।