নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেছে নিতে বেশি সময় নেবে না ইরান
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আকস্মিক মৃত্যুর পর নতুন উত্তরসূরি নির্বাচনে ইতিমধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছে তেহরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) জানিয়েছে, নতুন নেতা বেছে নিতে তারা খুব বেশি সময় নেবে না।


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আলী মোয়ালেমি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিষদের সদস্যরা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। মোয়ালেমি জোর দিয়ে বলেন, পরিষদের প্রত্যেক সদস্য এই মর্মে শপথ নিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে যথাযথ নিয়ম, বিচারবুদ্ধি এবং ধর্মীয় নীতি অনুসরণ করেই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা বাছাই করা হবে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই এক হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার এই প্রয়াণ ইরানের দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। ১৯৮৯ সালে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন খামেনি। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থার মূল কাণ্ডারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মাঝে নতুন নেতা নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদই দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী এই পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তি নির্ধারণের একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ। এখন দেখার বিষয়, যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে কার কাঁধে বর্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব।