আসমান ও জমিনে একমাত্র ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মালিক আল্লাহ তায়ালা। মানুষের জীবনের গতিপথ, রাষ্ট্রক্ষমতার দোলাচল, সব কিছুই তাঁর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী চলে। পৃথিবীতে আমরা অনেককেই ক্ষমতাধর, প্রভাবশালী বা প্রভুত্বকারী হিসেবে দেখে থাকি কিন্তু কুরআন আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়, ক্ষমতা প্রদান কিংবা তা কেড়ে নেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর।
সূরা আল ইমরানের ২৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত, ‘হে আল্লাহ, তুমি সার্বভৌম ক্ষমতার অধিপতি; যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দাও, যাকে ইচ্ছা ক্ষমতাচ্যুত করো; যাকে ইচ্ছা মর্যাদা দাও এবং যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত করো।’
মূলত মানুষকে ক্ষমতা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা পরীক্ষা করেন। কেউ সঠিকভাবে ক্ষমতার ব্যবহার করলে নিয়ামত বাড়িয়ে দেন; আর জুলুমে লিপ্ত হলে মুহূর্তেই কেড়ে নেন সবকিছু। কুরআনে এমন বহু স্বৈরশাসকের পরিণতি বর্ণিত হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য এক চিরন্তন সতর্কবার্তা।
এর মধ্যে প্রথম উদাহরণ, দাম্ভিক নমরুদ।
চারশত বছরের শাসক এই জালিম নিজেকে প্রভু দাবি করেছিল, এমনকি আল্লাহকে ধ্বংস করতে আসমান স্পর্শী টাওয়ার নির্মাণের দুঃসাহস দেখিয়েছিল। শেষে এক ক্ষুদ্র মশাই তার পরিণতি নির্ধারণ করে দেয়। যন্ত্রণায় মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেও রেহাই পায়নি সে। আল্লাহর শাস্তির সামনে সবচেয়ে শক্তিশালী শাসকও অসহায়।
কোরআনে স্বৈরাচারীতার দ্বিতীয় উদাহরণ, ধন-দৌলতের অহংকারী কারুন।
সূরা কাসাসে বলা হয়েছে, কারুনের ধনভাণ্ডারের চাবি বহন করত শক্তিমান লোকদের একটি দল। তার সম্প্রদায় তাকে দম্ভ ছাড়তে বললেও সে দাবি করেছিল, এ সম্পদ সে অর্জন করেছে নিজের জ্ঞানবলে। কিন্তু শক্তি, সম্পদ, কর্তৃত্ব কিছুই তাকে রক্ষা করতে পারেনি। শেষ অবধি আল্লাহ তাকে তার প্রাসাদসহ ধসিয়ে দেন ভূগর্ভে।
তৃতীয় উদাহরণ—উদ্ধত ফেরাউন।
মুসা আ.–এর যুগের স্বৈরাচার ফেরাউন নিজের জনগণের ওপর সীমাহীন নির্যাতন চালিয়ে নিজেকে দেবতা দাবি করেছিল। কুরআন জানায়, ফেরাউন ও তার বাহিনী অহমিকার সীমা অতিক্রম করেছিল। অবশেষে আল্লাহ তাকে এবং তার সৈন্যদলকে সাগরে ডুবিয়ে শাস্তি দেন, যাতে পৃথিবীর মানুষ বুঝতে পারে—জালিমের শেষ পরিণতি কত ভয়াবহ।
সূরা কাসাসের ৪০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তাকে এবং তার বাহিনীকে পাকড়াও করলাম এবং সাগরে নিক্ষেপ করলাম। দেখো, জালিমদের পরিণতি কী হয়ে থাকে।’
স্বৈরাচারীতা কখনোই মঙ্গল বয়ে আনে নি। বিশ্ব ইতিহাসে বারবার প্রতীয়মান, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। যারা ক্ষমতাকে জুলুম, নির্যাতন ও অহংকারের অস্ত্র বানায়, তাদের জন্য কুরআনের এই উদাহরণগুলো এক গভীর সতর্কবার্তা। আর যারা ন্যায়, সত্য ও ঈমানের পথে থাকে তাদের পক্ষেই অনুকূল হয় শেষ পরিণতি ।

