পবিত্র রমজান মাস শুধু ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনাহারে থাকার নাম নয়; এটি মূলত আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির এক মহিমান্বিত সময়। শরীরকে রোজার জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি আমাদের হৃদয় ও মনকে প্রস্তুত করাও অপরিহার্য। কারণ, রমজানের প্রকৃত শিক্ষা ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন শুরু হয় মানুষের অন্তরের গভীর থেকে।
রমজানের প্রস্তুতির প্রথম ও প্রধান ধাপ হলো 'নিয়াত' বা সংকল্প। কোনো প্রিয় অতিথির আগমনে আমরা যেমন আনন্দিত হই, রমজানকেও ঠিক তেমন আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানানোর মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ‘রমজান’ শব্দের অর্থ এমন এক উত্তাপ, যা মানুষের ভেতরের পাপকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। তাই এই মাস শুরুর আগেই আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত যেন তিনি আমাদের ভেতরের অপ্রয়োজনীয় আসক্তি দূর করে হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে দেন।
হৃদয়ে আধ্যাত্মিক সংযোগ তৈরির জন্য দৈনন্দিন কোলাহল ও ডিজিটাল ব্যস্ততা কমিয়ে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সারাক্ষণ ফোন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত না থেকে দিনে অন্তত ১০ মিনিট নীরবতায় কাটানোর অভ্যাস করা প্রয়োজন। এই ১০ মিনিটের নিস্তব্ধতা ও একান্ত দোয়া মানুষকে অনেক বেশি শান্ত ও মনোযোগী করে তোলে, যা রমজানে দীর্ঘ ইবাদতে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করে।
রমজান শেষে অনেকেই আবার আগের পুরনো অভ্যাসে ফিরে যান। এই পরিস্থিতি এড়াতে এখন থেকেই একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা জরুরি।
কোরআন তিলাওয়াত: যারা বেশি কোরআন পড়তে চান, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক করা।
নামাজে যত্নশীল হওয়া: পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত ও নফল নামাজে মনোযোগ দেওয়া।
ইতিবাচক পরিবর্তন: নিজের চরিত্র ও অভ্যাসে স্থায়ীভাবে ভালো কিছু যোগ করার সংকল্প করা।
রমজান আমাদের জীবনে আসুক এক প্রিয় অতিথির মতো, যা কেবল আমাদের দেহকে নয়, বরং আত্মা ও বিবেককে জাগিয়ে তুলবে। হৃদয়ের এই প্রস্তুতিই রমজানকে আরও অর্থবহ এবং ফলপ্রসূ করে তুলবে।

