দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন, উভয় ক্ষেত্রেই দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবণতা। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাপ্তাহিক ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। একইসাথে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮০ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এবং ডিএস-৩০ সূচকেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ডিএসইতে গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ৬৬৮ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৭৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩১টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৪১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। গত সপ্তাহে সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও রেনাটার শেয়ার।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারের একক আধিপত্য ছিল। মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ০৩ শতাংশ দখল করে শীর্ষে রয়েছে এই খাতটি। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল যথাক্রমে ওষুধ ও রসায়ন (১৪.৫৭%) এবং বস্ত্র খাত (৯.৩৪%)।
রিটার্নের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি লাভজনক ছিল প্রকৌশল খাত (৫.৬৬%)। এরপরই রয়েছে ব্যাংক ও মিউচুয়াল ফান্ড খাত। বিপরীতে সাধারণ বিমা, জীবন বিমা ও টেলিযোগাযোগ খাতে নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।
দেশের অপর পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সূচকের ঊর্ধ্বগতি ছিল। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৭৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএসইতে লেনদেন বাড়লেও সিএসইতে সাপ্তাহিক লেনদেনের পরিমাণ গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৬৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬০টির দর বেড়েছে এবং ৮৭টির দর কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বড় মূলধনী শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্রিয় হওয়ায় বাজারে এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

