গত ১২ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা সত্ত্বেও ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পতনের কোনো সম্ভাবনা দেখছে না ওয়াশিংটন। যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এমনই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত চারজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মতে, হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইরানে সরকার পতনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থন কিছুটা বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরও সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক অভিযান চালায়।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। সেই হামলায় ইরানের অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর এলিট শাখা আইআরজিসি এর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারও ছিলেন।
পরবর্তীতে ইরানের প্রভাবশালী সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিককে নির্বাচিত করে। নিহত কর্মকর্তাদের শূন্যপদও দ্রুত পূরণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার আগে এক ভিডিও বার্তায় ইরানের জনগণকে ক্ষমতা দখলের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে যুদ্ধের এই পর্যায়ে তিনি ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর পক্ষে নন বলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরানের শক্তিশালী বাহিনী আইআরজিসিকে দুর্বল করতে বিদ্রোহী কুর্দ যোদ্ধাদের ব্যবহার করার পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ইরাকের কুর্দ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
তবে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা ও অস্ত্রশস্ত্র আইআরজিসির বিরুদ্ধে কার্যকর হবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইরাক থেকে কুর্দ যোদ্ধাদের ইরানে প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে সে বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি কোনো মুখপাত্র।

