রমজান ২০২৬: রোজা ও ইফতারের দিকনির্দেশনা
ছবিঃ সংগৃহীত

রমজান মাসে রোজা পালন ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ। হিজরতের দেড় বছর পর আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উপর রোজা ফরজ করেছেন। সুরা বাকারা (আয়াত ১৮৩) এ উল্লেখ আছে:


“তোমারদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে—যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।”


রোজার গুরুত্ব ও সওয়াব

রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে, বিপুল সওয়াব লাভ করে এবং অনুকম্পায় ঋদ্ধ হয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন:

“যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, আল্লাহ তাআলা তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।”

(বুখারি, হাদিস: ১৯০১; তিরমিজি, হাদিস: ৬৮৩)


রোজার নিয়ত

রোজা পালনের জন্য সাহরি ও ইফতার গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ত মূলত মনের ইচ্ছা—মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়। ঘুম থেকে ওঠা এবং সাহরি খাওয়া নিজেই নিয়তের অন্তর্ভুক্ত।


আরবি:

نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيم

বাংলা উচ্চারণ:

নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করলাম। তাই তুমি আমার রোজা কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।


ইফতারের দোয়া

আরবি:

بسم الله اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ


বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিকের মাধ্যমে ইফতার করছি।

(আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৮)


ইফতারের পরের দোয়া

আরবি:

ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَ ثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ


বাংলা উচ্চারণ: জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতাল্লাতিল উ’রুকু; ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।


অর্থ: পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহ চাইলে সাওয়াব স্থির হলো।

(আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৭)


ইফতারের ফজিলত

সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তটি রোজাদারের জন্য পরম আনন্দের। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন:


“রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ। একটি ইফতারের সময়, আরেকটি প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার সময়।”

(তিরমিজি, হাদিস: ৭৬৬)


আল্লাহ তাআলা আমাদের রোজা, নিয়ত ও ইফতার কবুল করুন। আমিন।