সাতক্ষীরা জুড়ে আমের মুকুলের ঘ্রানে স্বপ্ন দেখছে আম চাষিরা
বিপ্লবী বার্তা

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে আমের মুকুলে এখন মৌমাছিদের গুঞ্জন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের গ্রামজুড়ে আমগাছগুলো এরই মধ্যে মুকুলে ভরে গেছে। সোনালি মুকুলের সুবাসে বদলে গেছে চারপাশের পরিবেশ।


চাষিরা জানান, এ বছর সময়ের আগেই গাছে মুকুল এসেছে। কুয়াশাবিহীন আবহাওয়ায় মুকুল ঝরে না যাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।


বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা ঘুরে বিষ্ণুপুর গ্রামে কথা হয় আমচাষি পীযূষ কান্তি রায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁর তিন বিঘা জমিতে দেড় শতাধিক আমগাছ রয়েছে। মাঘ মাসের প্রথম থেকেই গাছে মুকুল এসেছে। কুয়াশা না থাকায় মুকুল ঝরে পড়েনি। ফলে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।


বালিয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর গ্রামের তপন সরকার বলেন, গাছে প্রচুর মুকুল ধরেছে। মৌমাছি বসায় দ্রুত গুটি আসছে। গুটি ঝরে না যাওয়ার জন্য গাছের গোড়ায় পানি দেওয়ার পাশাপাশি স্প্রে করে হরমোন ও ডিডিটি প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাঁর বাগানে হিমসাগর, লেংড়া, গোপালভোগ ও আমরুপালি জাতের আম রয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে গতবারের তুলনায় এ বছর ফলন বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


মৌতলা গ্রামের আমচাষি মুজাহিদ, আজহার, শংকর দে সহ একাধিক কৃষক জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া ও শীত কম পড়ায় এবার আমের ফলন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিদেশে আম পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটে না বলে তারা অভিযোগ করেন। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে কৃষি বিভাগের সুপারিশ অনুযায়ী অধিক খরচ করেও বিদেশে আম পাঠাতে না পেরে অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় চাষিদের।


নলতার বাগবাটি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও সুবাহান জানান, তাঁদের পাঁচ বিঘা জমিতে তিন শতাধিক আমগাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে বাগানের পরিচর্যা করা হয়েছে বলেও জানান তারা।


কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বছর শীতে কুয়াশা না থাকায় উপজেলাজুড়ে ভালো পরিমাণে মুকুল এসেছে। এ ধারা বজায় থাকলে কৃষকরা ভালো ফলন পেতে পারেন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বর্ষা বা ঝড় হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী চাষি ও কৃষি বিভাগ।