দীর্ঘ সাত দশকের কঠোর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সৌদি আরবে নীরবে বাড়ছে মদ বিক্রির পরিধি। ২০২৪ সালে কেবল বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য সীমিত পরিসরে সুযোগ দেওয়া হলেও, সম্প্রতি বিত্তশালী অমুসলিম প্রবাসীদের জন্যও মদের বাজার উন্মুক্ত করেছে রিয়াদ।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ২০২৫ সালের শেষ দিকে নিজেদের মদ্যপান নীতিতে বড় ধরনের এই পরিবর্তন এনেছে সৌদি সরকার।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সৌদিতে বসবাসরত অমুসলিম প্রবাসীদের মধ্যে যাদের বার্ষিক ১ লাখ রিয়াল মূল্যের ‘প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পারমিট’ রয়েছে, তারাই মূলত এই সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া যেসব অমুসলিম প্রবাসীর মাসিক আয় অন্তত ৫০ হাজার রিয়াল, তারাও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মদ কিনতে পারছেন। তবে কোনো মুসলিম প্রবাসীর কাছে মদ বিক্রি বা প্রবেশের অনুমতি এখনো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
তবে মদ বিক্রির ক্ষেত্রে সৌদি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করছে। বিবিসির তথ্যানুযায়ী, মদের দোকানে প্রবেশের আগে ক্রেতাদের মোবাইল ফোন জমা রাখা হয়। ভেতরে মানুষের ভিড় এতটাই বেশি থাকে যে, কখনো কখনো ক্রেতাদের এক ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দামের ক্ষেত্রেও এটি ইউরোপের বাজারের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। তবে ব্ল্যাক মার্কেটের তুলনায় দাম কম হওয়ায় বিত্তশালী প্রবাসীরা এখান থেকেই মদ সংগ্রহ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
১৯৫২ সালে দেশটিতে মদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে ভিশন-২০৩০-এর অংশ হিসেবে এবং বিশ্ব দরবারে সৌদি আরবকে একটি আধুনিক ও উদার রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনছেন। যদিও বর্তমানে কেবল কূটনীতিক ও বিত্তশালী প্রবাসীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন, তবে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন ভবিষ্যতে পর্যটকদের জন্যও এই দ্বার উন্মুক্ত করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ৭৩ বছর পর ২০২৪ সালে রিয়াদের কূটনৈতিক পাড়ায় প্রথম মদের দোকান খোলার মাধ্যমে এই নীরব বিপ্লবের সূচনা হয়। বর্তমানে সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি না থাকলেও, নীতিমালার এই ধারাবাহিক পরিবর্তন দেশটিতে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসারে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

