বনপাড়া পৌর বাজার ইজারায় ‘অদৃশ্য সমঝোতা’র অভিযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার প্রধান বাজার ইজারা প্রক্রিয়া ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত অর্থবছরে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও চলতি অর্থবছরে একই বাজারের ইজারা মূল্য নেমে এসেছে ১ কোটি ২১ লাখ টাকায়। ফলে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পৌরসভার রাজস্ব আয় কমেছে ৪২ লাখ টাকা।



অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বনপাড়া পৌর বাজারে দোকান সংখ্যা, ভাড়া ও দৈনিক বেচাকেনার পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমেনি। বরং নতুন কিছু দোকান যুক্ত হওয়ায় বাজারের আর্থিক কার্যক্রম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এমন অবস্থায় ইজারা মূল্য হঠাৎ করে ২৫ শতাংশেরও বেশি কমে যাওয়াকে ‘অস্বাভাবিক’ বলছেন স্থানীয় সচেতন মহল।



স্থানীয় সূত্র জানায়, এবারের ইজারা দরপত্রে প্রকৃত প্রতিযোগিতা ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, আগেভাগেই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ইজারার বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী অন্য ইজারাদারদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।



ইজারা নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি রাজনৈতিক। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগির মাধ্যমে কম দামে বাজার ইজারা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাজারের ইজারাদার এবং বিএনপির বনপাড়া পৌর্ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ইজারা কারো একার পক্ষে নেওয়া সম্ভব না, আমার দলের নেতারা মনে করছে আমাকে দিয়ে হাঁট পরিচালনা করা সম্ভব, তাই তারা সবাই মিলে আমার নামে দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। তবে, কম দামে ইজারার যে বিষয়টি বলা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। আরও অনেকেই অংশগ্রহণ করেছিলো, আমরা সর্বোচ্চ দামে ইজারা পেয়েছি।‘ 



পৌরসভার একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বাজার ইজারা থেকেই পরিচ্ছন্নতা, সড়ক মেরামত, ড্রেনেজ ও আলোকসজ্জার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থ ব্যয় করা হয়। রাজস্ব কমে যাওয়ায় এসব খাতে বরাদ্দ কমানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



এ বিষয়ে বনপাড়া পৌরসভার সচিব হাফসা শারিমনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সরকারি বিধি অনুযায়ী ইজারা সম্পন্ন হয়েছে।” ইজারা মূল্য কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আইন অনুযায়ী তিন বছরের ইজারা মূল্যের গড় হিসাব করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এবার গড় মূল্য ছিল ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ টাকায়।“  



স্থানীয় নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ইজারা প্রক্রিয়ার স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, দরপত্রের কাগজপত্র, অংশগ্রহণকারী ইজারাদারদের তালিকা ও মূল্য প্রস্তাব প্রকাশ করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।


তারা বলছেন, “বাজার ইজারা কোনো রাজনৈতিক সম্পদ নয়, এটি জনগণের সম্পদ। এখানে অনিয়ম হলে তার দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।”