ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত থাকবে এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন হামলা চালানো হবে।
গত সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কিছু সময় পর, পিবিএস নিউজকে সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, “গোলাগুলি এখনও চলছে এবং আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যতদিন প্রয়োজন, আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শত্রুদের ওপর আঘাত চালাতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় ইরান আগ্রহী নয়। “আমরা আগের সংলাপগুলো থেকে তিক্ত অভিজ্ঞতা পেয়েছি। আমরা আর সেই পুনরাবৃত্তি চাই না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আমাদের এজেন্ডায় নেই।”
ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ২১ দিনব্যাপী সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনোরূপ সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র “অপারেশন এপিক ফিউরি” শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েল ইরানে “অপারেশন রোয়ারিং লায়ন” চালায়।
যুদ্ধের প্রথম দিনে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি সহ অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। রাজধানী তেহরান সহ বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান অভিযান চলছে। ইরানের জ্বালানি কাঠামো ও কয়েকটি তেলের ডিপোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য যে অভিযান ইরানে চালানো হয়েছিল— তা ইতোমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে।

