ইরানি সংবাদমাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত হওয়ার দাবি করা হলেও এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এর এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে এই দাবির পক্ষে তাসনিম নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবেদনে মূলত মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার এর নামে একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের বরাত দেওয়া হয়েছে।
সোমবার এক্সে স্কট রিটার নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইতামার বেন-গিভর, যিনি আহত হয়েছেন।”
তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে এই পোস্টটি করা হয়েছে সেটি আদৌ স্কট রিটার পরিচালনা করেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে পোস্টটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ফার্সি ভাষার ওই প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর হামলার কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ বা ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত তথ্যও দেওয়া হয়নি। বরং কয়েকটি পরিস্থিতিগত বিষয়কে ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর নতুন ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ না হওয়া, তার বাসভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা জোরদারের খবর, মার্কিন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের কথিত সফর স্থগিত হওয়া এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এর সঙ্গে নেতানিয়াহুর একটি ফোনালাপের অনির্দিষ্ট তারিখের রেকর্ড।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, সর্বশেষ ৭ মার্চ নেতানিয়াহুর নামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল। ওইদিন ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ব্যক্তিদের দেখতে যান তিনি।
এর আগেও ইরানি কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার দাবি তুলেছিল। গত ২ মার্চ কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন।
তবে পরে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, নেতানিয়াহুর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরটি ‘নিছক গুজব’।
এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর মৃত্যুর দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

