তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও নতুন সরকার, যা ঘটছে আগামী কয়েক দিন
ছবিঃ বিপ্লবীবার্তা

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে দেশজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।


আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রধানমন্ত্রী হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন।


নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন গেজেট জারি করবে। এরপর নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন এবং সংসদ গঠিত হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সংসদ নেতা নির্বাচন করলে তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তখন রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন।


সংবিধান অনুযায়ী, কোনো দল বা জোট ১৫১টি আসন পেলেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি জোট ২৯৭টি ঘোষিত আসনের মধ্যে ২১২টি পেয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৭টি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীজাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমন্বয়ে গঠিত ১১ দলীয় জোট। ধারণা করা হচ্ছে, সংসদে প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত। এছাড়া স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা পেয়েছেন ৮টি আসন।


নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্ভাব্য প্রায় ৫০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।


এর আগে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, সর্বোচ্চ ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশ এবং ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।


সবকিছু ঠিক থাকলে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে এবং এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের অবসান ঘটবে।