আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত সফর করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী সফরের শেষ পর্যায়ে আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরের পৃথক জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে তিন জেলাতেই এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
আজ সকাল ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমানযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি হেলিকপ্টার যোগে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেলা হাইস্কুল মাঠের জনসভায় যোগ দেন। সেখান থেকে দুপুর দেড়টায় নীলফামারী পৌরসভা বড় মাঠে এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।
নীলফামারীর হাইস্কুল বড় মাঠটি বিএনপির জন্য ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৭ সালে এখানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দিয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই দশক পর এই মাঠে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী এখন মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন হাতে জনসভাস্থলে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা।
দিনাজপুরের জনসভা শেষে তারেক রহমান তার প্রয়াত নানা ইস্কান্দার মজুমদার, নানি তৈয়বা মজুমদার ও খালা সাবেক মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সন্ধ্যায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে তার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি রংপুরে বিশাল জনসভা করে উত্তরবঙ্গ সফরে চমক সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।
বিএনপি নেতা-কর্মীরা আশা করছেন, আগামীতে তাদের দল সরকার গঠন করলে উত্তরাঞ্চলকে বৈষম্যমুক্ত করে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় আনা হবে। বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সার্বিক উন্নয়নে উত্তরাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান দলটির নেতারা।
এদিকে জনসভাকে কেন্দ্র করে তিন জেলাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর প্রস্তুতি। পুরো নীলফামারী শহর বর্তমানে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় রয়েছে।

