নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় মেরুকরণ ঘটিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি দলের মধ্যে ২৫০টি আসনে প্রাথমিক সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৫০টি আসন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটিকে জোটে ভেড়াতে শেষ মুহূর্তের আলোচনা ও অপেক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে বাকি দলগুলো।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১০ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনকে চূড়ান্ত সমঝোতায় রাজি করাতে দলটির সঙ্গে আলোচনার বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে।
বৈঠক শেষে মামুনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “১০ দলের উপস্থিতিতে বৈঠক শেষ হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আশা করছি তাদের নিয়েই আমরা আসন ঘোষণা করতে পারব।”
খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মোহাম্মদ মুনতাসির আলি জানিয়েছেন, আজ রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত না এলে পরবর্তী সময়ে বাকি আসনগুলোতেও প্রার্থী ঘোষণা করবে জোট।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “৩০০ আসনে কোনো দলীয় প্রার্থী হবে না, সবাই জোটের প্রার্থী হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
বৈঠকে অংশগ্রহণ শেষে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, তারা জোটে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে—আসন সমঝোতার রাজনৈতিক স্মারক নির্ধারণ, সংসদে দক্ষতা ও নারী-সংখ্যালঘু প্রার্থীদের অগ্রাধিকার এবং সুনির্দিষ্ট সমন্বয় নীতি প্রণয়ন।
বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও আলোচনার পথ খোলা রেখেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানান, প্রস্তুতির অভাবে আজকের বৈঠকে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য না করার অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, জামায়াতের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে যেন ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা না হয়।
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা মামুনুল হক, আহমদ আবদুল কাদের, মজিবুর রহমান মঞ্জু, রাশেদ প্রধানসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

