আপিলেও প্রার্থিতা ফিরল না জামায়াত প্রার্থী ফজলুল হকের
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হকের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন নামঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া বাতিলের সিদ্ধান্তই বহাল রইলো এবং আপাতত তার নির্বাচনে লড়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল।


আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানির তৃতীয় দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন এই সিদ্ধান্ত জানান। 


নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ডা. একেএম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব (যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব) থাকার অভিযোগ ছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তা এই যুক্তিতেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। ইসির শুনানিতে ফজলুল হক দাবি করেন যে তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন। তবে নাগরিকত্ব ছাড়ার চূড়ান্ত ও প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই বহাল রাখে।


শুনানি শেষে ডা. একেএম ফজলুল হক গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বৈষম্যের শিকার হয়েছি। বিএনপির অনেক প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের চূড়ান্ত কাগজ জমা না দিলেও তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কঠোরতা দেখানো হয়েছে। আমি আমার আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।


গত ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আপিল শুনানি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন ৭০টি করে আবেদনের শুনানি করছে কমিশন। সোমবার শুনানির তৃতীয় দিনে ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর ক্রমিকের আপিলগুলো নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত কয়েকশ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগ প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। 


মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশনে গত ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) শেষ হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করেন। 


ইসির সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।