আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত গণভোট। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষকে বিজয়ী করতে দেশব্যাপী বিশেষ প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ২৭০টি আসনে বিশেষ ‘অ্যাম্বাসেডর’ বা প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে দলটি।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, গণভোটের এই বিশেষ প্রচারণার নেতৃত্ব দেবেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। চলতি সপ্তাহ থেকেই সারাদেশে দলটির নেতাকর্মীরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় নামবেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ জানান, যেসব আসনে এনসিপির নিজস্ব প্রার্থী থাকবে না, সেসব আসনে ২৭০ জন প্রতিনিধি জনগণের কাছে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করবেন। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিনিধিদের কাজ হবে জনগণকে সচেতন করা এবং কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জরুরি, তা বোঝানো।”
নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে এনসিপি তাদের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করেছে। ৩১ সদস্যের এই শক্তিশালী কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্যরা হলেন, চেয়ারম্যান: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি: মনিরা শারমিন, সদস্যবৃন্দ: ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি, আবু বাকের মজুমদার, আকরাম হুসাইন, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা প্রমুখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিতে যাচ্ছে এনসিপি। এখন পর্যন্ত এনসিপির ৪৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে জোটের সাথে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলে প্রার্থীরা জোটের স্বার্থে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দলীয় সূত্র।
আলাউদ্দীন মোহাম্মদ আরও স্পষ্ট করেন যে, যেখানে জোটের প্রার্থী থাকবে সেখানে প্রার্থী নিজেই প্রচার চালাবেন, আর যেসব আসনে প্রার্থী নেই সেখানেই মূলত ‘হ্যাঁ ভোট অ্যাম্বাসেডর’রা কাজ করবেন।
এনসিপি মনে করছে, এই সুসংগঠিত প্রচারণার মাধ্যমে গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হবে। পরিকল্পিতভাবে জনমত গঠন করে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষকে নিরঙ্কুশ জয়ী করাই দলটির প্রধান লক্ষ্য।

