পৌষের মাঝামাঝি এসে যেন শীত তার পুরো শক্তি নিয়ে হাজির। ভোর থেকে দুপুর চারদিক ঢেকে থাকছে কুয়াশার ঘন চাদরে। উত্তরের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে কুয়াশার মিলনে দেশের গ্রাম থেকে শহর, সবখানেই থমকে যাচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, এই কুয়াশাচ্ছন্ন ও শীতল পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে জানুয়ারিতে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় দিন কাটছে কষ্টে। ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে মহাসড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়ছে, কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে বন্ধও থাকছে যোগাযোগ।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে—৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, কুমিল্লা, যশোর, পটুয়াখালীর খেপুপাড়া, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও নীলফামারীর ডিমলায় তাপমাত্রা ১১ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দেশের কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। এতে ভোর ও সকালের কুয়াশা আরও ঘন হবে, বাড়বে শীতের তীব্রতা।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। কোনো কোনো অঞ্চলে তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে, বিশেষ করে নদী অববাহিকা এলাকায়।
এদিকে, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় চলাচলের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ। যানবাহনের হেডলাইট জ্বালিয়ে চলা এবং নৌযানে ধীরগতিতে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে। শীতজনিত রোগ থেকে বাঁচতে ছিন্নমূল মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতের ধরনও বদলে যাচ্ছে—কখনো স্বল্প সময়ের তীব্র ঠাণ্ডা, আবার কখনো দীর্ঘ সময় ধরে কুয়াশা ও শুষ্ক আবহাওয়া। তাই এই শীতে সতর্কতা ও মানবিক সহায়তা এখন সময়ের দাবি।

