ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন বর্জনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জানায়, ১৯৯৯ সালের সখীপুর–বাসাইল উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনস্বার্থ রক্ষার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়াকে দলটি কখনোই লক্ষ্য হিসেবে দেখেনি।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, গত দুই থেকে তিন দশকে দেশে জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে অনাস্থা বেড়েছে এবং জনগণের আস্থা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ফলে দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করে দলটি।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশে নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতার অভাব এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থাহীনতা নির্বাচনের সুষ্ঠু আয়োজনকে বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি হারানো অস্ত্র উদ্ধারের পরিবর্তে নতুন অস্ত্রের অনুমোদন দেওয়াকে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা হিসেবে দেখছে দলটি।


কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আরও দাবি করে, দেশের জনগণের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোনো উৎসাহ নেই এবং মাঠ পর্যায়ে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশও অনুপস্থিত। নির্বাচনপূর্ব সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন দাবি ও উদ্বেগ জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি।


এমন বাস্তবতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করে দলটি। তাই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে তথাকথিত এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে থাকা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে অবস্থান পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।