কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অপরাধ সংক্রান্ত নথিতে নাম থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমে পার্লামেন্টে ডাকার কথা থাকলেও, পরবর্তীতে ভেন্যু পরিবর্তন করে এই দম্পতিকে হোয়াইট হাউসে তলব করা হয়েছে।
বিল ক্লিনটনের মুখপাত্র অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩০ জানুয়ারি জেফরি এপস্টেইনের যৌন অপরাধ ও পাচার সংক্রান্ত অধিকাংশ গোপন নথি প্রকাশ করা হয়। এই নথিতে বিল ও হিলারি ক্লিনটন উভয়ের নাম উঠে আসে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ‘হাউস রুল কমিটি’ এই অভিযোগের তদন্ত করছে।
বিল ক্লিনটনের মুখপাত্র অ্যাঞ্জেল উরেনা তাঁর এক্স বার্তায় বলেন, “সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন হোয়াইট হাউসে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন। তারা এমন একটি নজির স্থাপন করতে চান, যা সবার জন্য প্রযোজ্য হবে।”
এএফপির বরাতে জানা গেছে, তদন্তের স্বার্থে প্রথমে তাদের পার্লামেন্টে ডাকার সিদ্ধান্ত হলেও পরে হোয়াইট হাউসে জিজ্ঞাসাবাদের আয়োজন করা হয়।
নিউইয়র্কে একটি ইহুদি পরিবারে জন্ম নেওয়া জেফরি এপস্টেইন ৭০-এর দশকের মাঝামাঝি ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষকতা চলাকালীন এক শিক্ষার্থীর বাবার মাধ্যমে তিনি ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকিং জগতে প্রবেশ করেন এবং মাত্র চার বছরের মধ্যে ‘বিয়ার স্টিয়ার্নস’-এর অংশীদার হন। ১৯৮২ সালে তিনি ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যমানের গ্রাহক সম্পদ ব্যবস্থাপনা করত।
বিপুল বিত্তের মালিক হওয়ার পর ভার্জিন আইল্যান্ড ও পাম বিচে তিনি নিজস্ব ‘সাম্রাজ্য’ গড়ে তোলেন। সেখানে দেশ-বিদেশের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আমোদ-ফূর্তির জন্য যাতায়াত করতেন।
২০১৯ সালের ৬ জুলাই যৌন নিপীড়নের দায়ে নিউইয়র্কে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরের মাসেই কারাবন্দি অবস্থায় তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। অনেকের ধারণা, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
এপস্টেইনের অতিথিদের তালিকায় বিল ও হিলারি ক্লিনটনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও পাওয়া গেছে। এ নিয়ে তদন্তের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
দলটির নেতারা দাবি করেছেন, এপস্টেইন নথিকে ট্রাম্প প্রশাসন বিরোধীদের দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, “আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। এপস্টেইন ফাইলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামও আছে। কিন্তু তাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়নি।”
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

