রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের অবারিত পেয়ালা হাতে নিয়ে আবারও আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে মহিমান্বিত রমজান। চলতি বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হতে পারে প্রথম রোজা।
রমজান মাসে মুমিন-মুসলমান সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও প্রবৃত্তি সংযমের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির অনুশীলনে নিজেকে নিয়োজিত করেন। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকির সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ বলেন, কিন্তু রোজা আলাদা। কেননা তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব।”
(বুখারি ১৯০৪, মুসলিম ১১৫১)
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রমজানের আগমনের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। তারা ছয় মাস আগে থেকেই দোয়া করতেন যেন আল্লাহ তাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন, এবং রমজানের পরবর্তী ছয় মাস দোয়া করতেন যেন তাদের ইবাদত কবুল হয়।
রমজানের জন্য প্রস্তুতির মূল ধাপসমূহ
১. দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ: রমজান শুরুর আগে অন্তরে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা জরুরি—এ মাসকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখুন।
২. তাওবাহ ও ইসতেগফারে অভ্যস্ত হওয়া: পূর্ববর্তী বছরের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা চেয়ে আন্তরিক তাওবাহ করা। বেশি বেশি পড়া:
اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ (আল্লাহুম্মাগফিরলি — হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করে দিন)
৩. কাজা রোজা আদায় করা: পূর্ববর্তী রমজানের কোনো রোজা বাকি থাকলে তা পূর্ণ করা শ্রেয়।
৪. রমজানের ফজিলত জানা: কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশ অনুযায়ী রমজানের মর্যাদা ও কল্যাণ সম্পর্কে ধারণা রাখা। বেশি বেশি পড়া:
اَللَّهُمَّ بَلِّغْنَا رَمَضَان (আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান — হে আল্লাহ, আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন)
৫. সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন: শিরক ও হিংসা থেকে মুক্ত থাকা, অন্তরকে পবিত্র রাখা।
৬. ফরজ রোজার মাসআলা জানা: রোজা সংক্রান্ত ফরজ, ওয়াজিব, মাকরুহ ও ভঙ্গের কারণগুলো জানা।
৭. শাবান মাসে রমজানের মহড়া দেওয়া: নফল রোজা, কুরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, দান-সদকা ও ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করা।
৮. পূর্ববর্তী রমজানের ঘাটতি চিহ্নিত করা: নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত, তারাবিহ, দান-সদকা বা ইতেকাফে ঘাটতি থাকলে তা পূরণে প্রস্তুতি নেওয়া।
৯. রমজানের রুটিন তৈরি করা: প্রতিদিনের সময়সূচি আগেভাগে ঠিক করা। ইবাদত ও দৈনন্দিন কাজের ভারসাম্য বজায় রাখা।
১০. চাঁদ অনুসন্ধানে সুন্নাত পালন: শাবান মাসের ২৯ তারিখ চাঁদ দেখা ও সংশ্লিষ্ট দোয়া পড়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দোয়া:
اَللهُ اَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا …
(আল্লাহ মহান। হে আল্লাহ! এ নতুন চাঁদকে আমাদের জন্য নিরাপত্তা, ইমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। আমাদের ও তোমার রব একমাত্র আল্লাহ।)
রমজান মাসের কল্যাণপূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ এখনই শুরু করা উচিত, কারণ ভালো প্রস্তুতি হলো সফল রমজানের অর্ধেক সাফল্য।

