ইরানের জলসীমার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি শক্তিশালী নৌবহর অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় নৌবহর মোতায়েন করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক বক্তব্যে এই তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইরানকে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প।
শক্তির মহড়া ও দ্বিতীয় নৌবহর এর আগে গত মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলসীমায় প্রবেশ করে মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন' ও এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো। আজ দ্বিতীয় নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “এ মুহূর্তে আরেকটি সুন্দর নৌবহর ইরানের দিকে ভেসে যাচ্ছে। আমি আশা করি তারা আমাদের সঙ্গে চুক্তি করবে।” তবে দ্বিতীয় এই বহরটিতে কোন কোন যুদ্ধজাহাজ থাকছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।
ভেনেজুয়েলা থেকে ইরান অভিমুখে সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে ইরানের কাছে ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় নৌবহর অবস্থান করছে। উল্লেখ্য, এই রণতরীগুলো আগে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মোতায়েন ছিল। গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা অপহরণ করার পর এই নৌবহরটিকে ইরানের দিকে সরিয়ে আনা হয়।
চুক্তির আহ্বান ও কূটনৈতিক চাপ সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইরান নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ করছে এবং চুক্তি করতে আগ্রহী। ট্রাম্প বলেন, “তারা চুক্তি করতে চায়। আমি জানি, তারা একাধিকবার যোগাযোগ করেছে। তারা কথা বলতে চায়।”
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বিমুখী নীতি—একদিকে কঠোর সামরিক অবস্থান এবং অন্যদিকে আলোচনার আহ্বান—অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

