কেন সব পান্ডা ফিরিয়ে নিচ্ছে চীন?
ছবিঃ সংগৃহীত

জাপানের টোকিওতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী উয়েনো চিড়িয়াখানা থেকে বিদায় নিচ্ছে শেষ দুটি জায়ান্ট পান্ডা। এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো পান্ডাশূন্য হতে যাচ্ছে সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে চীন তাদের এই ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ বা পান্ডা কূটনীতির ইতি টেনে প্রাণী দুটিকে ফেরত নিচ্ছে।


বিদায়বেলায় ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

আগামী মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) যমজ পান্ডা শিয়াও শিয়াও ও লেই লেই-কে চীনে ফেরত পাঠানো হবে। রোববার তাদের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হলে উয়েনো চিড়িয়াখানায় মানুষের ঢল নামে। কর্তৃপক্ষ জানায়:


মাত্র ৪,৪০০টি দর্শনার্থী স্লটের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ।


প্রিয় পান্ডা দুটিকে একনজর দেখতে অনেককে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে।


কী এই ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’?


১৯৪৯ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চীন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে পান্ডা উপহার বা ঋণ দিয়ে আসছে। তবে এর পেছনে থাকে গভীর ভূ-রাজনীতি:


বন্ধুত্বের প্রতীক: ১৯৭২ সালে জাপানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সময় প্রথমবারের মতো পান্ডা উপহার দিয়েছিল চীন।


মালিকানা ও ফি: বিদেশে থাকা সব পান্ডা এবং তাদের ছানাদের মালিকানা চীনেরই থাকে। বিনিময়ে স্বাগতিক দেশকে প্রতি জোড়া পান্ডার জন্য বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার ফি দিতে হয়।


সম্পর্কের মাপকাঠি: চীন খুশি থাকলে পান্ডা উপহার দেয়, আর সম্পর্কের অবনতি হলে তা ফিরিয়ে নেয়।


সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বিতর্কিত মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনার কারণেই পান্ডা ঋণের চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াতে রাজি হয়নি বেইজিং। ২০২১ সালে জাপানে জন্ম নেওয়া শিয়াও শিয়াও ও লেই লেই-এর বাবা-মা (রি রি ও শিন শিন)-কেও গবেষণার জন্য দেশটিতে রাখা হয়েছিল, যাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আগেই শুরু হয়েছে।


চলমান এই পরিস্থিতির কারণে অদূর ভবিষ্যতে জাপান আর নতুন কোনো পান্ডা ঋণ পাবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।