রাজধানীর উত্তরার একটি সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনটির দ্বিতীয় তলার রান্নাঘরে বৈদ্যুতিক গোলযোগ অথবা গ্যাস লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, তদন্তে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দোতলার একটি রান্নাঘর থেকেই আগুনের উৎপত্তি। এটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে হতে পারে, আবার গ্যাস লিকেজ থেকেও ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— ফজলে রাব্বি (৩৭), হারেস (৫২) এবং তার ছেলে রাহাব (১৭)। এছাড়া হারেসের স্ত্রী ও রাহাবের মা-ও এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে তাদের নাম এখনও জানা যায়নি। অপর এক নিহতের পরিচয়ও এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ওসি রফিক আহমেদ আরও জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আরও দুজনের মরদেহ উত্তরার অন্য একটি হাসপাতালে এবং সর্বশেষ একজনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এই ঘটনায় মোট কতজন আহত হয়েছেন, তা নির্ধারণে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এর আগে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ওই ভবনে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যেই উত্তর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
প্রায় আধাঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে ভবনের ভেতরে আটকা পড়া কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

