ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার চাইলেন সালমান-আনিসুল
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে কারফিউ জারি, গণহত্যায় উসকানি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শুনানি চলাকালীন তারা এই দাবি করেন এবং আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ এই আদেশ দেন। এদিন প্রথমে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের করা অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর প্রসিকিউশনের আনা সুনির্দিষ্ট পাঁচটি অভিযোগ পড়ে শোনান প্যানেলের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।


অভিযোগ পাঠ শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের কাছে জানতে চান তারা দোষ স্বীকার করেন কিনা। জবাবে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক দাঁড়িয়ে বলেন, “আমরা নির্দোষ। ট্রাইব্যুনালের কাছে আমরা ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।” এরপর আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।


প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা ফরমাল চার্জে যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুল হলো:


১. কারফিউ ও দমনের নীতিগত সিদ্ধান্ত: জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে মূল নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন সালমান ও আনিসুল। গত ১৯ জুলাই ফোনে কথোপকথনের সময় রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের 'শেষ করে দেওয়ার' পরিকল্পনা করেন তারা। তাদের প্ররোচনায় অসংখ্য প্রাণহানি ঘটলেও তারা তা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি।


২. ২৩ জুলাইয়ের মিরপুর হত্যাকাণ্ড: তাদের প্ররোচনা ও উসকানিতে মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তৎকালীন সরকারি দলীয় বাহিনী বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালায়।


৩. মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা: আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মারণাস্ত্র ব্যবহারের উসকানি ও সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এর ফলে ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে।


৪. ৪ আগস্টের নৃশংসতা: কারফিউ চলাকালীন মারণাস্ত্র ব্যবহারের উসকানিতে ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতু, আলভীসহ মোট ১২ জনকে হত্যার পেছনে তাদের দায় রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


৫. 'মার্চ টু ঢাকা' ঠেকাতে পরিকল্পনা: ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ব্যর্থ করতে সালমান ও আনিসুল পরিকল্পনা করেন। তাদের নির্দেশে চালানো হামলায় মিরপুর-২, ১০ ও ১৩ নম্বরে আল-আমিন, আশরাফুলসহ অন্তত ১৬ জন শহীদ হন।


উল্লেক্ষ্য, গত ৪ ডিসেম্বর এই দুই প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগগুলো আমলে নিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আজ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। ট্রাইব্যুনাল প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।