ছবিঃ সংগৃহীত
নজিরবিহীন এক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি দ্রুত নতুন মোড় নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার রাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি নিউইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসে অবতরণ করে। এরপর তাকে সরাসরি ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) নেওয়া হয়। এই কারাগারটি উচ্চ-প্রোফাইল বন্দিদের জন্য পরিচিত। এখানে এর আগে জেফরি এপস্টাইনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল এবং আলোচিত র্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বস আটক ছিলেন।
এদিকে মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছে। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযান নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শনিবার রাতে সিবিএস নিউজকে বলেন, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে যাবে, তার শর্ত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘প্রেসিডেন্ট অব অ্যাকশন’ আখ্যা দিয়েঅভিযানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
হামলার পর ক্যারিবীয় অঞ্চলের আকাশসীমায় আরোপ করা বিধিনিষেধ মার্কিন ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী দুপুর ১২টা থেকে তুলে নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
মাদুরো আটক ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, মাদুরো শাসনের অবসান নিয়ে ব্রিটেনের কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি ভেনেজুয়েলায় একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা এই অভিযানকে ‘অগ্রহণযোগ্য সীমা লঙ্ঘন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে আটক করার এই ঘটনা শুধু ভেনেজুয়েলার রাজনীতিই নয়, লাতিন আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

