সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫’ এর লিখিত পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি ও প্রবেশপত্র সংগ্রহের তারিখ ঘোষণা করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE)।
আগামী ২ জানুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার) সারা দেশের আবেদনকারীদের নিজ নিজ জেলায় এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১০ লক্ষাধিক প্রার্থীর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, ২ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দেড় ঘণ্টার এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীদের সুবিধার্থে নিজ নিজ জেলায় পরীক্ষা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এবারের নিয়োগে মোট ১৪,৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১০,৮০,০৮০ জন প্রার্থী। সেই হিসেবে প্রতিটি পদের জন্য লড়াই করবেন প্রায় ৭৫ জন পরীক্ষার্থী।
পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোডের প্রক্রিয়া আজ ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা admit.dpe.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে তাদের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।
প্রবেশপত্র সংগ্রহের দুটি সহজ পদ্ধতি রাখা হয়েছে:
১. আবেদনপত্রের ইউজার আইডি (User ID) ও পাসওয়ার্ড (Password) ব্যবহার করে।
২. অথবা প্রার্থীর এসএসসির রোল, বোর্ড ও পাসের সাল দিয়ে লগইন করে।
উল্লেখ্য, সকল যোগ্য প্রার্থীকে তাদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার (SMS) মাধ্যমেও বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে মানতে হবে যেসব কঠোর নির্দেশনাঃ
নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জালিয়াতিমুক্ত রাখতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বেশ কিছু 'ভাইটাল' নির্দেশনা জারি করেছে:
কান উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক: পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি বা ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার রোধে পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে। কক্ষ পরিদর্শক ও নিরাপত্তা কর্মীরা প্রয়োজনে টর্চলাইট ব্যবহার করে কান পরীক্ষা করবেন।
রঙিন প্রবেশপত্র ও পরিচয়পত্র: পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অবশ্যই প্রবেশপত্রের রঙিন প্রিন্ট কপি এবং প্রার্থীর মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID/Smart Card) সঙ্গে আনতে হবে।
কেন্দ্রে প্রবেশের সময়: পরীক্ষার্থীদের সকাল ৯:০০ টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সকাল ৯:৩০ মিনিটে কেন্দ্রের সকল প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর আর কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা: পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা ঘড়ি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।
নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে:
সব ধরণের মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট বা অ্যানালগ ঘড়ি। ইয়ারফোন, ব্লুটুথ ডিভাইস বা যেকোনো ধরণের ট্রান্সমিটিং যন্ত্র। ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্স বা লেডিস হ্যান্ডব্যাগ।
সতর্কবার্তা: যদি কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে এসব নিষিদ্ধ সামগ্রী পাওয়া যায়, তবে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হবে। একইসাথে তাকে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরির আবেদনের অযোগ্য ঘোষণা করাসহ তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "আমরা একটি মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সহযোগিতা এবং নির্দেশনাবলী যথাযথভাবে পালনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।"

