কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসলের বাজারে এখন যেন পানির দামও মিলছে না। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বেগুন, লাউ, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির দাম কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। কিন্তু সেই স্বস্তির উল্টো চিত্র কৃষকের ঘরে। উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। কোথাও কেজিপ্রতি বেগুন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ টাকায়। লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে অনেক কৃষক আগাম বেগুন ও লাউয়ের ক্ষেত তুলে ফেলছেন। সেই জমিতে সরিষা, শসা, ফুলকপিসহ বিকল্প ফসল আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। ফলে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত সবজির কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক সিদ্দিক খন্দকার পাঁচ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছিলেন। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফলন আসা পর্যন্ত প্রতি বিঘায় তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে মোট উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। অথচ এ পর্যন্ত বেগুন বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ টাকায়। লোকসান কমাতে এক সপ্তাহ আগেই তিনি ক্ষেতের বেগুনগাছ তুলে ফেলেছেন।
সিদ্দিক খন্দকার বলেন, গত বছর একই সময়ে প্রতি মণ বেগুন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। তখন ভালো লাভ হয়েছিল। সেই আশায় এবারও বেগুন চাষ করেছিলেন। কিন্তু এবার বাজারে দাম না থাকায় পরিচর্যার খরচও তুলতে পারছেন না। তাই বেগুনের ক্ষেত তুলে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে সরিষা এবং আধা বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছেন।
বেগুনের পাশাপাশি লাউ চাষেও লোকসান হয়েছে তাঁর। এক বিঘা জমিতে লাউ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। শুরুতে প্রতিটি লাউ ১০ টাকায় বিক্রি করলেও পরে তা কমে ৩ থেকে ৫ টাকায় নেমে আসে। এতে উৎপাদন খরচই ওঠেনি। এর সঙ্গে সারের সংকট ও বাড়তি দামে সার কেনায় খরচ আরও বেড়েছে। তবে এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করে কিছুটা লাভের মুখ দেখেছেন তিনি।
লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার নতুন করে সরিষা, শসা ও ফুলকপির আবাদ করছেন সিদ্দিক। ইতোমধ্যে ২৪ শতক জমিতে ফুলকপি লাগিয়েছেন। এ ছাড়া সাড়ে চার বিঘা জমির আমন ধান কাটার পর সেখানে ভুট্টা ও শসা চাষের পরিকল্পনা করছেন।
একই উপজেলার পূর্ব ফুলমতি এলাকার কৃষক মিজানুর রহমানও বেগুনের দরপতনে বিপাকে পড়েছেন। এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষে তাঁর খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। অথচ এখন পর্যন্ত বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৩০ হাজার টাকা।
তিনি জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতি মণ বেগুন বিক্রি করছেন মাত্র ১৫০ টাকায়। অথচ গত বছর একই সময়ে প্রতি মণ বেগুন বিক্রি করেছিলেন ৮০০ টাকায়। বর্তমান বাজারে বেগুন বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না। ভালো দাম পেলে আরও যত্নসহকারে গাছের পরিচর্যা করতেন। কিন্তু লোকসানের আশঙ্কায় এখন ক্ষেত তুলে অন্য ফসল চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নাওডাঙ্গা এলাকার সন্তোষ চন্দ্র রায় এবং কুরুষাফেরুষা এলাকার মুকুল মিয়া ও পুলিন চন্দ্র রায়সহ একাধিক কৃষকও একই দুরবস্থার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য মিলছে না। এতে কৃষিকাজ করে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে বালারহাট বাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান নতু ও রবিউল ইসলাম বাবু জানান, পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় খুচরা বাজারে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ৩ থেকে ৪ টাকায় কিনে ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করছেন। প্রতিটি লাউ ৫ থেকে ৭ টাকায় কিনে বিক্রি করছেন ১০ থেকে ১২ টাকায়। ফুলকপি ৩০ টাকায় কিনে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি ও মুলা প্রতি কেজি ১০ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি করছেন।
এ ছাড়া প্রতি কেজি শিম ৫০ টাকায় কিনে ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকায় কিনে ৬০ টাকা, আলু ১২ টাকায় কিনে ১৫ টাকা, পেঁয়াজ ৩২ টাকায় কিনে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতা ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকা, রসুন ৭০ টাকায় কিনে ৮০ টাকা, আদা ১২০ টাকায় কিনে ১৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
ফলে একই বাজারে তৈরি হয়েছে দুই ধরনের চিত্র। কম দামে সবজি কিনতে পেরে ক্রেতারা খুশি হলেও উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে হতাশ কৃষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে লোকসান গুনতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক সবজি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খরিফ-১ মৌসুমে ৪০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর জমির ফসল কর্তন করা হয়েছে। অন্যদিকে চলতি শীতকালীন মৌসুমে ৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে লাউ ৩৫ হেক্টর এবং কাঁচা মরিচ ১০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হলেও আবহাওয়া কৃষকদের অনুকূলে থাকায় বেগুন ও লাউয়ের উৎপাদন ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এসব সবজি বিক্রি করে কৃষকেরা ভালো দাম পেয়েছেন। তবে বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বেগুন ও লাউয়ের দাম কমে এসেছে।
প্রতিদিন ট্রাকযোগে এ অঞ্চল থেকে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি ট্রাক সবজি নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য পান, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসলের বাজারে এখন যেন পানির দামও মিলছে না। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বেগুন, লাউ, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির দাম কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। কিন্তু সেই স্বস্তির উল্টো চিত্র কৃষকের ঘরে। উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। কোথাও কেজিপ্রতি বেগুন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ টাকায়। লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে অনেক কৃষক আগাম বেগুন ও লাউয়ের ক্ষেত তুলে ফেলছেন। সেই জমিতে সরিষা, শসা, ফুলকপিসহ বিকল্প ফসল আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। ফলে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত সবজির কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক সিদ্দিক খন্দকার পাঁচ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছিলেন। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফলন আসা পর্যন্ত প্রতি বিঘায় তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে মোট উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। অথচ এ পর্যন্ত বেগুন বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ টাকায়। লোকসান কমাতে এক সপ্তাহ আগেই তিনি ক্ষেতের বেগুনগাছ তুলে ফেলেছেন।
সিদ্দিক খন্দকার বলেন, গত বছর একই সময়ে প্রতি মণ বেগুন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। তখন ভালো লাভ হয়েছিল। সেই আশায় এবারও বেগুন চাষ করেছিলেন। কিন্তু এবার বাজারে দাম না থাকায় পরিচর্যার খরচও তুলতে পারছেন না। তাই বেগুনের ক্ষেত তুলে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে সরিষা এবং আধা বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছেন।
বেগুনের পাশাপাশি লাউ চাষেও লোকসান হয়েছে তাঁর। এক বিঘা জমিতে লাউ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। শুরুতে প্রতিটি লাউ ১০ টাকায় বিক্রি করলেও পরে তা কমে ৩ থেকে ৫ টাকায় নেমে আসে। এতে উৎপাদন খরচই ওঠেনি। এর সঙ্গে সারের সংকট ও বাড়তি দামে সার কেনায় খরচ আরও বেড়েছে। তবে এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করে কিছুটা লাভের মুখ দেখেছেন তিনি।
লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার নতুন করে সরিষা, শসা ও ফুলকপির আবাদ করছেন সিদ্দিক। ইতোমধ্যে ২৪ শতক জমিতে ফুলকপি লাগিয়েছেন। এ ছাড়া সাড়ে চার বিঘা জমির আমন ধান কাটার পর সেখানে ভুট্টা ও শসা চাষের পরিকল্পনা করছেন।
একই উপজেলার পূর্ব ফুলমতি এলাকার কৃষক মিজানুর রহমানও বেগুনের দরপতনে বিপাকে পড়েছেন। এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষে তাঁর খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। অথচ এখন পর্যন্ত বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৩০ হাজার টাকা।
তিনি জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতি মণ বেগুন বিক্রি করছেন মাত্র ১৫০ টাকায়। অথচ গত বছর একই সময়ে প্রতি মণ বেগুন বিক্রি করেছিলেন ৮০০ টাকায়। বর্তমান বাজারে বেগুন বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না। ভালো দাম পেলে আরও যত্নসহকারে গাছের পরিচর্যা করতেন। কিন্তু লোকসানের আশঙ্কায় এখন ক্ষেত তুলে অন্য ফসল চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নাওডাঙ্গা এলাকার সন্তোষ চন্দ্র রায় এবং কুরুষাফেরুষা এলাকার মুকুল মিয়া ও পুলিন চন্দ্র রায়সহ একাধিক কৃষকও একই দুরবস্থার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য মিলছে না। এতে কৃষিকাজ করে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে বালারহাট বাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান নতু ও রবিউল ইসলাম বাবু জানান, পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় খুচরা বাজারে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ৩ থেকে ৪ টাকায় কিনে ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করছেন। প্রতিটি লাউ ৫ থেকে ৭ টাকায় কিনে বিক্রি করছেন ১০ থেকে ১২ টাকায়। ফুলকপি ৩০ টাকায় কিনে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি ও মুলা প্রতি কেজি ১০ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি করছেন।
এ ছাড়া প্রতি কেজি শিম ৫০ টাকায় কিনে ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকায় কিনে ৬০ টাকা, আলু ১২ টাকায় কিনে ১৫ টাকা, পেঁয়াজ ৩২ টাকায় কিনে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতা ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকা, রসুন ৭০ টাকায় কিনে ৮০ টাকা, আদা ১২০ টাকায় কিনে ১৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
ফলে একই বাজারে তৈরি হয়েছে দুই ধরনের চিত্র। কম দামে সবজি কিনতে পেরে ক্রেতারা খুশি হলেও উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে হতাশ কৃষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে লোকসান গুনতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক সবজি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খরিফ-১ মৌসুমে ৪০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর জমির ফসল কর্তন করা হয়েছে। অন্যদিকে চলতি শীতকালীন মৌসুমে ৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে লাউ ৩৫ হেক্টর এবং কাঁচা মরিচ ১০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হলেও আবহাওয়া কৃষকদের অনুকূলে থাকায় বেগুন ও লাউয়ের উৎপাদন ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এসব সবজি বিক্রি করে কৃষকেরা ভালো দাম পেয়েছেন। তবে বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বেগুন ও লাউয়ের দাম কমে এসেছে।
প্রতিদিন ট্রাকযোগে এ অঞ্চল থেকে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি ট্রাক সবজি নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য পান, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন