জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ৭ম আন্তঃবিভাগ ভলিবল প্রতিযোগিতা ২০২৫–২০২৬(ছাত্র-ছাত্রী)-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ (ধূপখোলা মাঠ)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা সপ্তম আন্তঃবিভাগ ভলিবল প্রতিযোগিতা মাঠে গড়াতে পেরেছি—এ জন্য আলহামদুলিল্লাহ। আগের পরিস্থিতি ও মাঠের অবস্থার তুলনায় বর্তমানে আমরা অনেক ভালো অবস্থানে আছি। আমি এর আগে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক থাকাকালীন সময় থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে খেলাধুলায় এগিয়ে নেওয়ার জন্য সচেষ্ট ছিলাম।”
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে শিক্ষাজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, “খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার অপরিহার্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে আমরা কাজ করছি। যারা নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে, তারা প্রশাসনের বিশেষ নজরে থাকবে। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্তি, ক্রেডিটের আওতাভুক্তি এবং সনদ অর্জনের একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভলিবল, ফুটবল কিংবা ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের সাফল্য মূলত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ততা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দলগুলোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন ক্রীড়াক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভা ও সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছরের পথচলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন সময়ে নানা সীমাবদ্ধতা ও বঞ্চনা থাকলেও এখন হতাশ হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ধূপখোলা মাঠ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি ব্যবহার করে আসছে। মাঠটির বৈধ মালিকানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিয়ে আসার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “আমি উপাচার্য হওয়ার পর প্রতিদিন কী কাজ করছি, আমার প্রতিটি মুহূর্তের কার্যক্রম জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। কারণ উপাচার্যকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে। এখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই; আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে কাজ করছি।” একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আলী নূর। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, সহকারী প্রক্টর, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ৭ম আন্তঃবিভাগ ভলিবল প্রতিযোগিতা ২০২৫–২০২৬(ছাত্র-ছাত্রী)-এ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটসহ মোট ৪০টি দল অংশগ্রহণ করবে। প্রতিযোগিতাটি ১ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ (ধূপখোলা মাঠ)-এ অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ৭ম আন্তঃবিভাগ ভলিবল প্রতিযোগিতা ২০২৫–২০২৬(ছাত্র-ছাত্রী)-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ (ধূপখোলা মাঠ)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা সপ্তম আন্তঃবিভাগ ভলিবল প্রতিযোগিতা মাঠে গড়াতে পেরেছি—এ জন্য আলহামদুলিল্লাহ। আগের পরিস্থিতি ও মাঠের অবস্থার তুলনায় বর্তমানে আমরা অনেক ভালো অবস্থানে আছি। আমি এর আগে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক থাকাকালীন সময় থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে খেলাধুলায় এগিয়ে নেওয়ার জন্য সচেষ্ট ছিলাম।”
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে শিক্ষাজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, “খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার অপরিহার্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে আমরা কাজ করছি। যারা নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে, তারা প্রশাসনের বিশেষ নজরে থাকবে। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্তি, ক্রেডিটের আওতাভুক্তি এবং সনদ অর্জনের একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভলিবল, ফুটবল কিংবা ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের সাফল্য মূলত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ততা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দলগুলোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন ক্রীড়াক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভা ও সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছরের পথচলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন সময়ে নানা সীমাবদ্ধতা ও বঞ্চনা থাকলেও এখন হতাশ হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ধূপখোলা মাঠ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি ব্যবহার করে আসছে। মাঠটির বৈধ মালিকানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিয়ে আসার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “আমি উপাচার্য হওয়ার পর প্রতিদিন কী কাজ করছি, আমার প্রতিটি মুহূর্তের কার্যক্রম জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। কারণ উপাচার্যকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে। এখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই; আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে কাজ করছি।” একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আলী নূর। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, সহকারী প্রক্টর, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ৭ম আন্তঃবিভাগ ভলিবল প্রতিযোগিতা ২০২৫–২০২৬(ছাত্র-ছাত্রী)-এ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটসহ মোট ৪০টি দল অংশগ্রহণ করবে। প্রতিযোগিতাটি ১ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ (ধূপখোলা মাঠ)-এ অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন