রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ হয়তো শেষ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে বসতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার মস্কোতে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পুতিন। এ সময় তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, বিষয়টির অবসান হতে চলেছে।”
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই পুতিনের এই মন্তব্য সামনে এলো। দুই দেশ তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং এক হাজার বন্দি বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এর আগে মস্কোর রেড স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের প্রশংসা করেন পুতিন। তিনি এই যুদ্ধকে “ন্যাটো জোটের সমর্থিত আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে ন্যায্য লড়াই” হিসেবে বর্ণনা করেন।
পুতিন আরও বলেন, বিজয় সবসময়ই আমাদের ছিল এবং থাকবে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পশ্চিমা দেশগুলো ন্যাটো পূর্বদিকে সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে ইউক্রেনকে নিজেদের বলয়ে টানার চেষ্টা করেছে।
রাশিয়ার বার্ষিক বিজয় দিবস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে পালিত হয়। তবে এবারের আয়োজন ছিল তুলনামূলক সংযত। রেড স্কোয়ারে ভারী সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনের বদলে বড় পর্দায় সামরিক ভিডিও দেখানো হয়।
আল জাজিরার তথ্যমতে এবারের কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় উত্তর কোরিয়ার সেনারা। কুর্স্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবেই এই উপস্থিতি বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা দেন, তাঁর আহ্বানে রাশিয়া ও ইউক্রেন শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “এই যুদ্ধবিরতিতে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ থাকবে এবং উভয় দেশ এক হাজার করে বন্দি বিনিময় করবে।”
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে এবং দুই পক্ষ প্রতিদিনই সমাধানের আরও কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিজয় দিবস উদযাপনকে ব্যঙ্গ করে একটি ডিক্রি জারি করেন। এতে রেড স্কোয়ারকে সাময়িকভাবে ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে ক্রেমলিন জেলেনস্কির এ পদক্ষেপকে “হাস্যকর রসিকতা” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে জেলেনস্কি শান্তি আলোচনার জন্য পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মস্কো সফরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি।
শনিবার পুতিন জানান, তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠক সম্ভব, তবে সেটি হতে হবে কেবল একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য। এটি অবশ্যই চূড়ান্ত সমঝোতা হতে হবে, কোনো দীর্ঘ আলোচনা নয়।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ হয়তো শেষ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে বসতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার মস্কোতে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পুতিন। এ সময় তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, বিষয়টির অবসান হতে চলেছে।”
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই পুতিনের এই মন্তব্য সামনে এলো। দুই দেশ তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং এক হাজার বন্দি বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এর আগে মস্কোর রেড স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের প্রশংসা করেন পুতিন। তিনি এই যুদ্ধকে “ন্যাটো জোটের সমর্থিত আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে ন্যায্য লড়াই” হিসেবে বর্ণনা করেন।
পুতিন আরও বলেন, বিজয় সবসময়ই আমাদের ছিল এবং থাকবে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পশ্চিমা দেশগুলো ন্যাটো পূর্বদিকে সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে ইউক্রেনকে নিজেদের বলয়ে টানার চেষ্টা করেছে।
রাশিয়ার বার্ষিক বিজয় দিবস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে পালিত হয়। তবে এবারের আয়োজন ছিল তুলনামূলক সংযত। রেড স্কোয়ারে ভারী সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনের বদলে বড় পর্দায় সামরিক ভিডিও দেখানো হয়।
আল জাজিরার তথ্যমতে এবারের কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় উত্তর কোরিয়ার সেনারা। কুর্স্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবেই এই উপস্থিতি বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা দেন, তাঁর আহ্বানে রাশিয়া ও ইউক্রেন শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “এই যুদ্ধবিরতিতে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ থাকবে এবং উভয় দেশ এক হাজার করে বন্দি বিনিময় করবে।”
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে এবং দুই পক্ষ প্রতিদিনই সমাধানের আরও কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিজয় দিবস উদযাপনকে ব্যঙ্গ করে একটি ডিক্রি জারি করেন। এতে রেড স্কোয়ারকে সাময়িকভাবে ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে ক্রেমলিন জেলেনস্কির এ পদক্ষেপকে “হাস্যকর রসিকতা” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে জেলেনস্কি শান্তি আলোচনার জন্য পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মস্কো সফরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি।
শনিবার পুতিন জানান, তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠক সম্ভব, তবে সেটি হতে হবে কেবল একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য। এটি অবশ্যই চূড়ান্ত সমঝোতা হতে হবে, কোনো দীর্ঘ আলোচনা নয়।

আপনার মতামত লিখুন