আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধের দামামার মধ্যে ঝটিকা সফরে বের হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। ওমান ও পাকিস্তান সফর শেষ করে বর্তমানে তিনি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থান করছেন। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসবেন তিনি।
সফরের শুরুতে আরাগচি ওমান যান। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে ইরানি সংবাদমাধ্যম 'ইরনা'কে আরাগচি বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা একটি বৈশ্বিক ইস্যু। যেহেতু এই প্রণালীর এক তীরে ইরান এবং অপর তীরে ওমান, তাই আমাদের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের জায়গা থেকে এ বিষয়ে আলোচনা করা জরুরি ছিল।”
রাশিয়া যাওয়ার পথে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যাত্রাবিরতি করেন আরাগচি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরান 'তিন স্তরের' একটি নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের হাতে হস্তান্তর করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। আরাগচি পাকিস্তান ত্যাগের পরপরই এই নতুন প্রস্তাবের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আজ সোমবার ভোরে সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছানো আরাগচির মূল লক্ষ্য রাশিয়ার সমর্থন ও যুদ্ধের হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে পরামর্শ করা। সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সর্বশেষ অবস্থা এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করাই এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওমান, পাকিস্তান ও রাশিয়া এই তিন দেশ সফরের মাধ্যমে ইরান একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে রাশিয়ার মতো শক্তিশালী বন্ধু রাষ্ট্রকে পাশে রেখে যুদ্ধের একটি সম্মানজনক সমাধানের পথ খুঁজছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের এই বৈঠক থেকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে রাশিয়ার ভূমিকা কী হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধের দামামার মধ্যে ঝটিকা সফরে বের হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। ওমান ও পাকিস্তান সফর শেষ করে বর্তমানে তিনি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থান করছেন। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসবেন তিনি।
সফরের শুরুতে আরাগচি ওমান যান। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে ইরানি সংবাদমাধ্যম 'ইরনা'কে আরাগচি বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা একটি বৈশ্বিক ইস্যু। যেহেতু এই প্রণালীর এক তীরে ইরান এবং অপর তীরে ওমান, তাই আমাদের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের জায়গা থেকে এ বিষয়ে আলোচনা করা জরুরি ছিল।”
রাশিয়া যাওয়ার পথে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যাত্রাবিরতি করেন আরাগচি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরান 'তিন স্তরের' একটি নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের হাতে হস্তান্তর করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। আরাগচি পাকিস্তান ত্যাগের পরপরই এই নতুন প্রস্তাবের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আজ সোমবার ভোরে সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছানো আরাগচির মূল লক্ষ্য রাশিয়ার সমর্থন ও যুদ্ধের হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে পরামর্শ করা। সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সর্বশেষ অবস্থা এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করাই এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওমান, পাকিস্তান ও রাশিয়া এই তিন দেশ সফরের মাধ্যমে ইরান একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে রাশিয়ার মতো শক্তিশালী বন্ধু রাষ্ট্রকে পাশে রেখে যুদ্ধের একটি সম্মানজনক সমাধানের পথ খুঁজছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের এই বৈঠক থেকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে রাশিয়ার ভূমিকা কী হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

আপনার মতামত লিখুন