দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবং প্রায় দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও বেশ কয়েকটি মৌলিক ইস্যুতে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান পাঁচটি বিরোধপূর্ণ শর্তগুলো হলো:
পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক। তবে তেহরান এ দাবিতে রাজি নয়। ইরানের অবস্থান, এ ধরনের কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হতে পারে, স্থায়ীভাবে নয়।
ইউরেনিয়াম মজুত
বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, এই ইউরেনিয়ামের পুরোটা যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে দেওয়া হোক। তবে তেহরান এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ
ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান, চূড়ান্ত চুক্তির আগে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
আটকে থাকা অর্থ ফেরত
ইরান চায়, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক এবং বিদেশে আটকে থাকা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হোক।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ
আলোচনায় ইরান বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য দুই দেশকে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ইস্যুতে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব নয়।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবং প্রায় দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও বেশ কয়েকটি মৌলিক ইস্যুতে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান পাঁচটি বিরোধপূর্ণ শর্তগুলো হলো:
পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক। তবে তেহরান এ দাবিতে রাজি নয়। ইরানের অবস্থান, এ ধরনের কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হতে পারে, স্থায়ীভাবে নয়।
ইউরেনিয়াম মজুত
বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, এই ইউরেনিয়ামের পুরোটা যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে দেওয়া হোক। তবে তেহরান এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ
ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান, চূড়ান্ত চুক্তির আগে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
আটকে থাকা অর্থ ফেরত
ইরান চায়, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক এবং বিদেশে আটকে থাকা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হোক।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ
আলোচনায় ইরান বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য দুই দেশকে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ইস্যুতে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন