ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ইরান-নির্মিত ‘শাহেদ’ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ এবার রাশিয়া থেকে ইরানে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মূলত ইরান-নির্মিত এই ড্রোনগুলো ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করে আসছে রাশিয়া এমনটাই দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এবার সেই ড্রোনেরই উন্নত সংস্করণ রাশিয়া তৈরি করে ইরানে পাঠাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন সংস্করণের এসব ড্রোনে জেট ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নেভিগেশন, উন্নত জ্যামার-প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং স্টারলিঙ্ক সদৃশ স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে, যা এটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব ড্রোন মানবিক সহায়তার আড়ালে ট্রাকের মাধ্যমে আজারবাইজান হয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। তবে চালানের পরিমাণ বা এটি এককালীন নাকি ধারাবাহিক সরবরাহ তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে অভিযোগটি অস্বীকার করা হয়েছে। দিমিত্রি পেসকভ একে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্য কোনো দেশ ইরানকে কী সরবরাহ করছে তা তাদের সামরিক অভিযানের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে না।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, এ ধরনের উন্নয়ন পরিস্থিতিকে জটিল করলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি ইরানের হাতে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

