যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে গত ১৭ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিনই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এসব দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো লক্ষ্য করে ইরান ৩ হাজারের বেশি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর অর্ধেকের বেশি হামলা হয়েছে আমিরাতে।
আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেনাঘাঁটি রয়েছে—আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল-দাফরা বিমান ঘাঁটি এবং দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর। অধিকাংশ হামলা এই দুই ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হলেও, ইরান আমিরাতের অন্যান্য বিমানবন্দর, তেলখনি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাতেও হামলা করেছে।
হামলায় এ পর্যন্ত আমিরাতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জন সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বাকি ৬ জন বেসামরিক নাগরিক।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়া সংলাপ শেষ হয়। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে।
এই হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, আইআরজিসি-র শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইরানে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সমান্তরালে ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। যুদ্ধ শুরু থেকেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় ৬ দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।

