জাবিতে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদ, শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম
ছবিঃ বিপ্লবীবার্তা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার’ আড়ালে পুনরায় বৈষম্যমূলক পোষ্য কোটা চালুর অভিযোগ উঠেছে। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। 


​আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিট্রার ভবনের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টার মধ্যে প্রশাসনের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত স্থগিত না করা হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।


​অবস্থান কর্মসূচিতে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাব্বি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসন করে প্রশাসনিক সুবিধার নামে পুনরায় পোষ্য কোটা পুনর্বহাল করেছে। প্রশাসন মূলত নতুন বোতলে পুরোনো মদ বিক্রির চেষ্টা করছে, যা আমরা আর মেনে নেব না। ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ছলচাতুরি করে কোটা ব্যবস্থা পুনরায় বহাল রাখা যাবে, প্রশাসনের এমন ভাবনা সম্পূর্ণ ভুল।”


​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল বৈষম্যমূলক পোষ্য কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করা। পূর্বে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে এই কোটার কবর রচনা করা হলেও, পরবর্তীতে জাকসু বন্ধের হুমকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার নামে এটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।”


​বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়ে চিশতী আরো বলেন, “আগামীকাল সকাল ১১টার মধ্যে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচিতে যাবে। জাকসু থাকবে কি থাকবে না—এমন হুমকিতে শিক্ষার্থীরা আর ভয় পায় না। ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীরা দিন-রাত এখানে অবস্থান করবে।”


​জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবাইদা ওসামা জানান, আগামী ১ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় ভর্তির আবেদন গ্রহণ চলবে। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন সচল কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, ২১টি হল সংসদ এবং বিভাগীয় সংসদ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের এমন গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে প্রয়োজনে গণভোটের আয়োজন করা হোক।”