পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বে ট্রাম্পের আপত্তি, পাশে দাঁড়িয়েছে ৮ মুসলিম দেশ
ছবিঃ সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক দখলদারিত্ব ও আবাসন সম্প্রসারণবাদী তৎপরতায় কড়া আপত্তি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-কে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প মনে করেন ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য একটি স্থিতিশীল পশ্চিম তীর অপরিহার্য। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি স্থাপনকে বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে ট্রাম্প প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েলের বর্তমান নীতি এই শান্তি প্রক্রিয়ার অন্তরায়।


২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের কাজ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। গত আড়াই বছরে সেখানে হাজার হাজার নতুন আবাসন তৈরির পরিকল্পনা পাস হয়েছে, যার অনেকগুলোর কাজ বর্তমানে চলমান। 


সবশেষ গত রোববার ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোৎরিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


ইসরায়েলি মন্ত্রীদের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর তীব্র বিরোধিতা করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত 'গাজা বোর্ড অব পিস'-এর সদস্য এই আটটি দেশ সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের এই একতরফা পদক্ষেপ শত শত ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দেবে।


মিত্র দেশগুলোর এই কঠোর অবস্থানের পরপরই ট্রাম্প ইসরায়েলি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন, যা তেল আবিবের ওপর বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।