বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে জাপানের সঙ্গে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করল বাংলাদেশ।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও চুক্তিতে সই করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই চুক্তিকে ‘দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন’ উল্লেখ করে বলেন, “এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়, বরং দুই দেশের গভীর পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ। এর কার্যকর বাস্তবায়ন পারস্পরিক সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায় শুরু করবে।”
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো তৈরি পোশাকসহ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। বিশেষ করে পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল সংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক জাপানে রপ্তানি করা যাবে।
বাণিজ্যিক পণ্যের বাইরেও এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জাপানের দুয়ার খুলে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, নার্সিং ও কেয়ারগিভিং সহ ১৬টি বিভাগের ১২০টি উপখাতে বাংলাদেশিরা জাপানে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া বাংলাদেশের উৎপাদন, অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে জাপানি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে। পরবর্তী ৬ থেকে ৮ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে আরও ২ হাজার ৭০২টি জাপানি পণ্য এই সুবিধার আওতায় আসবে। তবে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে জাপানি গাড়ির ওপর এখনই শুল্কছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এলডিসি উত্তরণের পর জাপানের বাজারে শুল্ক সুবিধা বজায় রাখতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্ণ শুল্কছাড় কার্যকর হলে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও, এই চুক্তি না হলে রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল।
বর্তমানে এশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য জাপান। বছরে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় এই চুক্তির ফলে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

