বিপ্লবী বার্তা
হাতিয়ায় গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ এবং নাটোর, ঝালকাঠিসহ দেশব্যাপী নির্বাচন পরবর্তী হামলা, ভাঙচুর ও সহিংসতার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।আজ (১৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ইতিহাস বিভাগ ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “দেশের সাধারণ জনগণের অর্থে নির্বাচন পরিচালিত হয়। জনপ্রতিনিধিদের রাষ্ট্রের চেয়ারে বসানো হয় জনগণের সুবিধা-অসুবিধা দেখার জন্য, ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য নয়। অথচ নির্বাচনের পরপরই বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও ভাঙচুর করা হচ্ছে। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং হাতিয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। রংপুরে এনসিপির পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে, হাতিয়ায় শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, যার সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের জড়িত থাকার কথা শোনা যাচ্ছে। আমরা এই ধর্ষণকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। আর তদন্তে যদি প্রমাণ হয় যে ধর্ষণ ঘটেনি, তবে যারা এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।”
বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জেনিচ আরও বলেন, “বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ লুটপাট করেছে। এখন বিএনপির কিছু লোকজন সেই যুবলীগ-ছাত্রলীগের চরিত্র ধারণ করে দখল, চাঁদাবাজি ও হামলা করছে। আপনারা কিছুদিন পরই সরকার গঠন করবেন, কিন্তু সাবধান! আওয়ামী লীগের চরিত্র ধারণ করলে গণঅভ্যুত্থানের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে। বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো লুম্পেনগিরি চলবে না।”
এছাড়াও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী জাবি শাখার সংগঠক জাওয়াদুল ইসলাম জামিল বলেন, “নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই বিরোধী পক্ষের মানুষের ওপর নির্যাতন শুরু হয়ে গেছে। পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হচ্ছে, বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে এবং ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। চাঁদাবাজি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমরা আগামীতে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা দাবি জানান, রাজনীতিতে পেশিশক্তি ও টাকার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সকল সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়ে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।

