“জাকসুকে শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা যাবেনা”: আব্দুর রশিদ জিতু
বিপ্লবী বার্তা
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) প্যাডে একক স্বাক্ষরে সাধারণ সম্পাদকের (জিএস) দেওয়া এক বিবৃতি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিপির সম্মতি ছাড়াই দেওয়া এই বিবৃতিকে ‘দলীয় স্বার্থ’ ও ‘শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু। অন্যদিকে জিএস মাজহারুল ইসলামের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া ওই বিবৃতিতে নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর, ধর্ষণ ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে শুধু জিএস মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষর ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা এক মন্তব্যে জানান, তিনি এই বিবৃতির পক্ষে ছিলেন না।


​এ বিষয়ে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগগুলো জাতীয় গণমাধ্যমে বা পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার আগে আমি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে রাজি ছিলাম না। আমি জিএসকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছিলাম যে, ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার আগে আমি বিবৃতি দেওয়ার পক্ষে নই। কিন্তু সকালে উঠে দেখি, তিনি একক স্বাক্ষরে জাকসুর প্যাডে বিবৃতি দিয়েছেন।”


​জাকসুকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করে ভিপি আরও বলেন, “জাকসু সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে, এটি একটি নিরপেক্ষ জায়গা। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া তড়িঘড়ি করে বিবৃতি দিয়ে জাকসুকে দলীয় স্বার্থে বা শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা যেতে পারে না। আমাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাকসুর সভাপতি তথা উপাচার্যকে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল, যা করা হয়নি।”


​অন্যদিকে, ভিপির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম। তার দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
 

এ বিষয়ে জাকসুর ​জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ভিপি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তবে বিবৃতিতে সায় না দিয়ে সময় নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জাকসুর অধিকাংশ সম্পাদকের মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাকসুতে ভিপি বা জিএস কারও একক সিদ্ধান্ত চলে না, শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতেই সিদ্ধান্ত হয়।”


​বিবৃতির বিষয়বস্তুর পক্ষে অবস্থান নিয়ে মাজহারুল আরও বলেন, “বিবৃতির ভাষা সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত এবং সংবাদমাধ্যমের খবরের ভিত্তিতেই তৈরি। ভুক্তভোগীর সরাসরি অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা শুধু একটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছি। একে দলীয় বা একপাক্ষিক বলাটা একেবারেই অবাস্তব।”


​এদিকে, জিএসের এমন একপাক্ষিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে জাকসুর প্যাড ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন শহীদ সালাম-বরকত হলের জিএস মো. মাসুদ রানা, এজিএস তাইফ আজিম এবং মওলানা ভাসানী হলের সমাজসেবা সম্পাদক তানজির হিমেল।


​সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, জাকসু সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করার বদলে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে চলে যাচ্ছে কি না। বিবৃতির মূল বিষয়বস্তুকে ছাপিয়ে এখন জাকসুর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও জিএসের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াই ক্যাম্পাসে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।