চতুর্থবার সরকার গঠনে বিএনপি, মন্ত্রিসভার লাইমলাইটে নুর ও পার্থ
ছবিঃ বিপ্লবীবার্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর এখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অভিজ্ঞ ও নবীনের সমন্বয়ে একটি ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ সরকার গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি। এবারের মন্ত্রিসভায় শুধুমাত্র দলীয় নেতাদেরই নয়, বরং জোটের শরিক ও টেকনোক্র্যাট কোটায় বিশেষজ্ঞদেরও স্থান দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।


রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি। দলীয় সূত্র ও গুঞ্জন অনুযায়ী, তিনি নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে লড়া এই নেতা নির্বাচনের আগেই জানিয়েছিলেন যে, 'জাতীয় সরকার' গঠিত হলে তাকে মন্ত্রী করার বিষয়ে দলের হাইকমান্ডের ইতিবাচক ইঙ্গিত রয়েছে।


এছাড়া ২০ দলীয় জোটের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ও বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ পেতে পারেন রেলপথ মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, বাম ধারার রাজনীতিক ও গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে দেখা যেতে পারে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।


মন্ত্রিসভায় মেধা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে টেকনোক্র্যাট কোটায় যুক্ত হতে পারেন একাধিক প্রভাবশালী নেতা। এই তালিকায় নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং মাহদী আমিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সকল সদস্যের মন্ত্রিসভায় থাকা প্রায় নিশ্চিত। সিনিয়রিটির ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।


রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হবে। এরপর একই দিন বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ করাবেন। এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বিএনপির চতুর্থ মেয়াদের শাসনকাল।