ফরিদপুরে ককটেল সদৃশ ৭ বস্তু উদ্ধার, শহর জুড়ে উৎকণ্ঠা
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত একটি বাড়ি থেকে ককটেল সদৃশ সাতটি বিস্ফোরক বস্তু উদ্ধার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।


রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল আলীপুর এলাকার ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পরিচালিত অভিযানে বাড়িটির একটি কক্ষ থেকে প্লাস্টিকের কৌটায় কসটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় সন্দেহজনক সাতটি বস্তু উদ্ধার করা হয়।


নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় বস্তুগুলো তাৎক্ষণিকভাবে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পানি ভর্তি বালতিতে সংরক্ষণ করা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, বাড়িটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় এটি দুষ্কৃতিকারীদের গোপন আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।


প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা ভবিষ্যতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর উদ্দেশ্যেই এসব বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু সেখানে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। তবে কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কখন এসব বস্তু সেখানে রেখে গেছে—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


উদ্ধারকৃত বস্তুগুলো আদৌ বিস্ফোরক কি না, তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল কোতোয়ালি থানায় পৌঁছায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রম শুরু করেন।


এ সময় থানার আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।


ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোররাতে অভিযান চালিয়ে ককটেল সদৃশ বস্তুগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন,“প্লাস্টিকের কৌটায় কসটিপ দিয়ে মোড়ানো থাকায় এগুলো ককটেল, হাতবোমা কিংবা অন্য কোনো বিস্ফোরক কি না—তা পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জনমনে ভীতি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এগুলো সেখানে রাখা হয়েছিল।”


তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিলেও পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দ্রুত তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।