ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা
ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, বিএনপি বিশ্বাস করে—রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই গণতান্ত্রিক বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়। তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণার মাধ্যমে যদি জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, তবে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে।”
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বিএনপির জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।আয়োজিত এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, নারী জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় গেলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করবে।
ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পদ্মা নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদীভাঙন রোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষিখাতকে শক্তিশালী করতে কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই বীজ, সার ও কীটনাশক সংগ্রহ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
নারী ও শিশুদের কল্যাণের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের ঘরে ঘরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রশিক্ষিত হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
পানির সংকট নিরসনে ফরিদপুর অঞ্চলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার হটিয়ে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা হয়েছে। একইসঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “একটি গুপ্ত সংগঠনের নেতা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। ইতিহাস সাক্ষী—১৯৭১ সালেও তাদের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক।”
দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সঠিক নীতি, সুশাসন ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ—অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ফরিদপুরের এই বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে—দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।
জনসভা শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিন পর ফরিদপুরে এমন বৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশ জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

