যারা ভয় দেখায় তারা মতলববাজ—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। অথচ বাস্তবতা হলো, ইসলামী শিক্ষা আজ পর্যন্ত টিকে আছে তাদের হাতেই।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কওমি মাদরাসা আমাদের কলিজা। আমরা কথা নয়, কাজে প্রমাণ করব। ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এবার আর পেছনে নয়, সামনে এগোবো—ইনশাআল্লাহ। জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।”
যুবসমাজকে বন্ধু উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, যুবকদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়া হবে। “বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অপমান করতে চাই না। তোমাদের প্রতিটি হাত দেশ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই,”—বলেন তিনি।
নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে মা-বোনদের ঘরের বাইরে বের হতে দেওয়া হবে না—এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। “আমাদের মা-বোনরাই আজ শিক্ষা নিয়ে বাইরে কাজ করছে। যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে। দেশের সব মা-বোনদেরও আমরা সেভাবেই গড়ে তুলব। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে,”—বলেন তিনি।
সমান অধিকার নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই এ দেশে সমান অধিকার পাবে। “ফ্যাসিবাদ, একনায়কতন্ত্র ও দুর্নীতির রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই,”—যোগ করেন তিনি।
ভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন তারা প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’-তে দেবেন। “‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। এ দেশে রাজার ছেলে রাজা হবে—এই সংস্কৃতি আমরা বদলাতে চাই। একজন রিকশাচালকের সন্তানও যোগ্যতায় প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে—এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ফেনী নদী নিয়ে কথা বলার কারণেই বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে জীবন দিতে হয়েছে। “তার রুহ ফেনীবাসীর কাছে রেখে গেলাম,”—বলেন তিনি।
ফেনীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান লালপুলে ওভারপাস, মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, দেশের সব জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ করা হবে এবং ফেনী তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হবে না।
জনসভায় ফেনীর তিনটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তারা কোনো একক দলের নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও ফেনীর সন্তান বেগম খালেদা জিয়াসহ জামায়াতের প্রয়াত নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
এর আগে সকাল ৮টা থেকে জনসভা শুরু হয়। এতে ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। এছাড়া আজ ও আগামীকাল ডা. শফিকুর রহমান নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

