মেক্সিকোতে ফুটবল মাঠে বন্দুক হামলা, নিহত ১১
ছবিঃ সংগৃহীত

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ গুয়ানাজুয়াতোর সালামানকা শহরে একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে।


সালামানকার মেয়র সিজার প্রিয়েতো এক বিবৃতিতে জানান, স্টেডিয়ামে তখন ফুটবল ম্যাচ চলছিল। খেলা যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে গ্যালারিতে প্রবেশ করে এক বন্দুকধারী। দর্শকদের লক্ষ্য করে সে হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ জন প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ১২ জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


শহরটিতে সম্প্রতি অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেয়র। তিনি একে ‘অপরাধের ঢেউ’ হিসেবে বর্ণনা করে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউমের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহায়তা কামনা করেছেন। মেয়র বলেন, “অপরাধী গ্যাংগুলো সরকারি কর্তৃপক্ষকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, তবে তারা কখনোই সফল হবে না।”


গুয়ানাজুয়াতো প্রদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে স্টেডিয়াম ও তার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ঘাতককে শনাক্ত বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।


মেক্সিকো বিশ্বের অন্যতম অপরাধপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত এবং এর মধ্যে সবচেয়ে সহিংস প্রদেশ হলো গুয়ানাজুয়াতো। মূলত মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘সান্তা রোসা ডি লিমা’ এবং ‘জ্যালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ নামক দুটি শক্তিশালী গ্যাংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত এই সহিংসতার মূল কারণ।


তবে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকোতে খুনের সামগ্রিক হার কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুসারে, প্রতি ১ লাখে খুনের হার ১৭.৫ জন, যা ২০১৬ সালের পর সর্বনিম্ন।